চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাড়ে সাতমাস আগে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চট্টগ্রাম যুবলীগের তিন সাংগঠনিক কমিটির সম্মেলনের দিনই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন হলেও এখনো মহানগর ও উত্তর সাংগঠনিক এই দুই কমিটি ঘোষণা হয়নি। সাড়ে সাত মাসেও এখানে নতুন কমিটি না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ১১৪ নেতা হতাশ বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
যুবলীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ওই দুটি কমিটিতে নেতৃত্বে আসতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কমিটির অন্যন্য পদেরও কয়েক’শ বায়োডাটা জমা পড়ে কেন্দ্রে। নতুন কমিটি না হওয়ায় নগর ও উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে পদ প্রত্যাশীরা ব্যক্তি উদ্যোগে ও আলাদাভাবে। তৃণমূলেও যুবলীগের দীর্ঘ এক থেকে দুই যুগ ধরে সম্মেলন ও নতুন কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও নগরের ৩৩নং ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপব বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্র থেকে যেসব কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে তা আমরা পালন করছি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে যেসব বায়োডাটা জমা পড়েছে এসব যাচাই বাছাই করে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নগরেও একটি নতুন কমিটি দেয়া হবে। আমরা সবাই কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আস্থাশীল।
একই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত বলেন, নতুন কমিটি কখন হবে তা আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক জানেন। তবে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত বছর নভেম্বরে ঢাকায় যুব সম্মেলন এবং ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে আমরা ব্যাপক কাজ করেছি। তারপরও সবাই চেয়ে আছে নতুন কমিটি ঘোষণার দিকে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম বলেন, নতুন কমিটির জন্য আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় আমরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, যেকোনো সময় উত্তর জেলা ও মহানগর কমিটিও ঘোষণা করা হবে।
গত বছরের ২৮ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, ২৯ মে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এবং ৩০ মে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরমধ্যে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দক্ষিণ জেলা, হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উত্তর জেলা এবং নগরের দ্য কিং অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়। ঢাক ঢোল পিটিয়ে আয়োজন করা এই সম্মেলনের অনেক আগে ঢাকায় গিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বায়োডাটা জমা দেন। শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন হলেও দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করা হলেও নেতৃত্ব নির্বাচন হয়নি। ওই সময় বলা হয়েছিল, পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় কেন্দ্র থেকে কমিটি দেয়া হবে।
এদিকে গত বছরের ১৬ নভেম্বর দিদারুল ইসলামকে সভাপতি এবং জহুরুল ইসলাম জহুরকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে ৪১ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল কেন্দ্র থেকে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগে সভাপতি পদে ২২ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৫ জন এবং উত্তর জেলা যুবলীগে সভাপতি পদে ৭ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২০ জন পদপ্রত্যাশী রয়েছেন। তাদের বায়োডাটা কেন্দ্রে রয়েছে। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য পদগুলোর কয়েক’শ বায়োডাটা কেন্দ্রে রয়েছে।

