দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, আখেরাত ও দুনিয়ার শান্তি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ।
রবিবার (১৫ জানুয়ারী) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে ১০টা ২২ মিনিটে শেষ হয় আখেরি মোনাজাত।
মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা দলে দলে যোগ দেন। তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমাস্থলে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
এদিন ফজরের পর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল ইসলাম, এরপর ভারতের আব্দুর রহমান হেদায়তি বয়ান করেন।
শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে গাজীপুর এবং রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকার লাখ লাখ মানুষ আখেরি মোনাজাতে শরিক হন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে শনিবার রাত ১০টার পর থেকে আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত আব্দুল্লাহপুর-ভোগড়া বাইপাস ও কামারপাড়া-মীরেরবাজার এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ি ডাইভারশন করা হয়েছে। এসব গাড়ি ইজতেমাস্থলে প্রবেশ করবে না। শুধু ইজতেমার মুসল্লিবাহী বাস ও গণপরিবহন চলাচল করবে।
শুক্রবার শুরু হয় প্রথম পর্বের ইজতেমা। দ্বিতীয় দিন শনিবার বাদ ফজর থেকে ইজতেমা মাঠে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমরা বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করেন। প্রথম পর্বের ইজতেমায় টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। লাখ লাখ মুসল্লির পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে টঙ্গীর তুরাগ তীর।
শনিবার সকালে ইজতেমা মাঠের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আগের দিনের তুলনায় অনেকটা ফাঁকা দেখা গেছে। শুক্রবার জুমার দিন থাকায় দেশের সর্ব বৃহৎ জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করার জন্য ফজরের নামাজের পর থকেই ইজতেমা মাঠে জড়ো হতে থাকেন সব বয়সের মানুষ। এ দিন টঙ্গী শহর ও ইজতেমাস্থলের আশপাশ এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ইজতেমা অভিমুখী সব প্রকার যানবাহনে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ভিড়। দুপুরের আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ময়দানে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা সড়ক ও খোলা স্থানে চটের বস্তা, পাটি, চাদর বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।

