নৌকাডুবির ঘটনায় সমুদ্রে ভাসতে থাকা ১৮০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে ইন্দোনেশিয়ায় নেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌকাটি গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়ার পর সম্ভবত ডুবে যায়। তাদের গন্তব্য কোথায় ছিল তা এখনো জানা যায়নি।
শনিবার টুইটে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্বজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। এদের অনেকেই মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে কয়েক লাখ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২০১৭ সালের ভয়াবহ দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের দক্ষিণ এশিয়া কয়েকটি দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখা হয়।
এশিয়ার অন্য কোনো দেশে আশ্রয়, খাদ্য ও চাকরির আশায় বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৌকায় চেপে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সময় প্রায়ই আন্তর্জাতিক জলসীমায় মৃত্যু হয় অনেক রোহিঙ্গার।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের কাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। মানব পাচারকারীরা প্রায়ই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্র পাড়ি দিতে তাদের প্রলুব্ধ করে।

