দিনে ৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে মেট্রোরেলে

আরো পড়ুন

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে ৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ছয়টি কোচ সংবলিত প্রতিটি একমুখী মেট্রো ট্রেন প্রতিবারে ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৭টি স্টেশনে থেমে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। তবে প্রথম দফায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হচ্ছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এই পথ পাড়ি দেয়া যাবে মাত্র ২০ মিনিটে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছয় কোচের মেট্রোরেল ভবিষ্যতে আট কোচে উন্নীত করা হবে। ট্রেনের দুই পাশে থাকবে দুটি ইঞ্জিন। মাঝের চারটি কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন যাত্রী এবং ট্রেইলার কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন যাতায়াত করতে পারবেন।

তাছাড়া মেট্রোরেলে নারী যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি ট্রেনের একটি করে কোচ শুধু নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে প্রতি ট্রেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৩৯০ জন নারী যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। নারী যাত্রীরা ইচ্ছা করলে অন্য কোচেও যাতায়াত করতে পারবেন।

মেট্রো স্টেশনগুলোয় নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক বাথরুমের ব্যবস্থা আছে। এসব বাথরুমে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থাও সংযোজিত আছে। গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক নারী যাত্রীদের জন্য মেট্রো ট্রেনের কোচের ভেতরে আসন সংরক্ষিত থাকবে।

ট্রেনের গতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেলের ডিজাইন স্পিড ১১০ কিলোমিটার। তবে অপারেশন স্পিড ১০০ কিলোমিটার। রেললাইনের যেসব স্থান সোজা, সেখানে ১০০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে ট্রেন। আবার যেসব জায়গা সাপের মতো বেঁকে গেছে, সেখানে ধীরে চলবে ট্রেন।

ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেট্রোরেলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। ফলে জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানির ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে। মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। যানজট বহুলাংশে কমবে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এমআরটি লাইন ৬ চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকালে দৈনিক ভ্রমণসময় ব্যয় (ট্রাভেল টাইম কস্ট) প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং যানবাহন পরিচালন ব্যয় (ভেহিকেল অপারেশন কস্ট) বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে।

এদিকে, উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পাশে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল আছে। ফলে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণমাত্রা মানদণ্ডসীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে মেট্রোরেল পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রভাব তো ফেলবেই না, বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপৎকালীন সময়ে মেট্রোরেলের অভ্যন্তর থেকে বের হওয়ার জন্য জরুরি বহির্গমন দরজা রাখা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন, রুট অ্যালাইনমেন্ট ও মেট্রো ট্রেনে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নি নির্বাপণব্যবস্থা হিসেবে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার ও ওয়াটার হাইড্রেন্ট সংযোজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র বিশেষায়িত মেট্রো পুলিশ গঠনের কার্যক্রমও চলছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, মেট্রোরেল চালুর মধ্যে দিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন আসবে। এতে যেহেতু একসঙ্গে অনেক যাত্রী পরিবহন করা যাবে, ফলে কম সময়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। মেট্রোরেলে যাতায়াতে যাত্রীদের খরচ ও সময় কমবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ