প্রবাসীদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরেও বাড়ছে না রেমিট্যান্স। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। যা গড়ে প্রতিদিন ৫ দশমিক ৮৮ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১০ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে সরকারি খাতের ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এছাড়াও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪২ লাখ মার্কিন ডলার এবং বিশেষায়িত এক ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এই সময়ে সাত ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। ব্যাংকগুলো হলো, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, উরি ব্যাংক এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার, আগস্টে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। সর্বশেষ গত নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। আর চলতি ডিসেম্বর মাসের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর শেষে রেমিট্যান্স আসতে পারে ১৭৬ কোটি মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসীরা দুই হাজার ১০৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এক হাজার ৬৩১ কোটি ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

