রংপুরের মিঠাপুকুরে অস্বচ্ছ, শারীরিকভাবে অক্ষম, অসহায় দুঃস্থ ও ভূমিহীনদের সরকারিভাবে ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও তা সহসা মিলছে না। জনপ্রতিনিধিদের টাকা না দিলে মিলছে না বিধবা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাতাভোগী ও ভাতা বঞ্চিতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিদের টাকা না দিলে ভাতার কার্ড পাওয়া যায় না। টাকা দেয়ার প্রতিযোগিতার কারণে সমাজের ছিন্নমূল ও ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িতরা এ প্রকল্পের বাইরে থাকছে। ফলে উপজেলায় ভিক্ষুকের সংখ্যাও বাড়ছে।
ভাতা বঞ্চিতরা জানান, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ভাতার জন্য ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়ে গেছি। এক দিন ভিক্ষা না করলে উপোস করতে হয়। কত দিন উপোস করে তাদের পেছনে ঘুরেছি; কিন্তু ভাতা তো দূরের কথা, আশ্বাসও পাইনি। তাই ভিক্ষা করে খাই।’
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের ভাতাভোগী মনোয়ারা বেগম জানান, মেম্বার পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে কার্ড করে দিয়েছেন।
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় সব জায়গায় একই অবস্থা। উপজেলা সমাজসেবা অফিস বলছে তাদের এখানে কিছু করার নেই। ইউনিয়ন পরিষদ কমিটি তালিকা করে দাখিল করে। ওই তালিকা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি চুড়ান্ত করে। তারা তালিকা অনুযায়ী ভাতা দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শুনি, কিন্তু কেউ অভিযোগ করে না।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অভিযোগ আছে, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কমিটি ও উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা শুধু ভাতা দিয়ে থাকি।
জাগো/আরএইচএম

