মাদককে ঘৃণা করা ও মাদক থেকে দূরে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সদ্য মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তরুণরা।
বৃহস্পতিবার যশোরের আহ্ছানিয়া মিশনের মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (আমিক) আলোচনায় এমন
প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। একই সাথে মাদকে আসক্তদের আলোকিত জীবনে ফিরে আসার আহবান জানান। জাতীয় রিকভারি মাস সেপ্টেম্বর’২২ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সভায় যশোরের নিউমার্কেটের খায়রুল আমিন বলেন, সুন্দর জীবন কেড়ে নিয়েছিল মাদক। মাদকমুক্ত থেকে সেটা বুঝতে পারছি। এজন্য মাদককে ঘৃণা করছি। কেন্দ্রের চিকিৎসাধীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন শুধু মাদক থেকে দূরে থাকলে চলবে না।
মাদককের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।আমাদের ধর্মীয় চর্চা বাড়াতে হবে। সমাজের অনেকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখবে সেটা গুরুত্ব না দিয়ে বা ঘৃনাকে শক্তিতে রুপান্তর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ২২ বছর আগে মাদকে আসক্ত সাতক্ষীরার মিজানুর রহমান এখন মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে এসেছেন। মাদক সেবনের কারণে
স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছিল। এখন ভালো হয়ে যাওয়ায় সেই নারীই আবার স্ত্রী হিসেবে ফিরে এসেছেন। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ভালো আছেন। শুধু খায়রুল ও মিজানুর রহমানই নন; অনেকে তাদের স্বপ্নের পৃথিবী সাজিয়েছেন
নতুন করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার তারা নিজ মুখে রিকভারি মাসে সেই গল্পই শোনালেন। তারা ঘৃণা করছেন মাদককে। শুধু ঘৃণাই নয়; মাদকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
যশোরের আহ্ছানিয়া মিশনের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ম্যানেজার আমিরুজ্জামান বলেন, মাদক রিকভারিরা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে একটা বড় সাড়া পড়ে। রিকভারীদের প্রতি সাহয্য সহযোগিতার হাত বাড়ালে এবং অবহেলা না করে ভালোবাসলে তারা সমাজের বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারবে।
এতে বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার মারুফুজ্জামান মারুফ, কাউন্সেলর মাসুদ রানা ও সাহিদ আলম।
এজন্য সেন্টারের চিকিৎসাধীনদের উপস্থিতিতে রিকভারি মাস সেপ্টেম্বর’২২ উদযাপন উপলক্ষে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিকালের পর্বে সকল রিকভারী ও ইনহাউজ রোগীরা একসাথে প্রীাতি ফুলবল টুর্নামেন্ট খেলা করে।

