পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির (২২) মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পথে নেমে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জন।
বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরেও একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংস বিক্ষোভ।
অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোয় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
ইরান সরকার দাবি করছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৪১, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক জন সদস্যও আছেন।
আইএইচআর-এর মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত ৭৬ জনের মধ্যে অন্তত ছয় নারী ও চার শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে সোমবারও তেহরান, ইয়াজদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মাজানদারান শহরে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ২৫। এরপর পশ্চিম আজারবাইজানে ১১, গিলান শহরে ১০, কেরমানশাহ শহরে ৬, কুর্দিস্তানে ৬, আলবোর্জে ৪ জন এবং তেহরানে ৩ জনের প্রাণ হারানোর তথ্য দিয়েছে আইএইচআর। বাকিরা মারা গেছেন কোহগিলুয়েহ এবং বয়ের আহমদ, ইসফাহান, খোরাসান-রাজাভি, জাঞ্জন, সেমন, কাজভিন, ইলম এবং পূর্ব আজারবাইজানে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গ্রেফতারের মোট সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা করছে বলেও দাবি করা হয় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে।
মাহসার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির ৮০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে গেছে।
জাগো/আরএইচএম

