শাহ জামাল শিশির, ঝিকরগাছা: যশোরের ঝিকরগাছায় প্রেমিকের ব্লাকমেইলের জেরে মারিয়া খাতুন নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে।
নিহত মারিয়া খাতুন (১৪) দর্জি আব্দুল হান্নানের মেয়ে। সে কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সকাল এগারটার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক মেহেদী হাসান পলাতক আছেন। সে একই গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের ছেলে এবং কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেহেদী হাসানের সাথে নবম শ্রেণির মারিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে মেহেদী মেয়েটির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতো। সর্বশেষ মোবাইল কিনতে টাকা চাওয়ায় মেয়েটি টাকা না দিতে পেরে তার বড় বোনের একভরি ওজনের সোনার চেইন দিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে-লজ্জায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে মেয়েটির বাবা আব্দুল হান্নান দাবি করছে, মেহেদী বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে ব্লাকমেইল করতো। মেয়ের মৃত্যুর পরে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে। আরেক মেয়ের মাধ্যমে তার মেয়ে মেহেদীর কাছে স্বর্ণের চেইন পাঠায়। সেই মেয়ের বরাতে তিনি জানতে পারেন মেহেদী সর্বদা তার মেয়েকে ব্লাকমেইল করে টাকা নিতো। তাকে হত্যার হুমকিও দিতো। এছাড়া কল রেকর্ডিং ফাঁস করে দেয়ার হুমকির ব্যাপারে তিনি জানতে পেরেছেন।
নিহত মেয়ের পরিবার ও সহপাঠীরা জানান, মেহেদীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময়ে সে চাপ প্রয়োগ করে টাকা নিতো। সর্বশেষ সে টাকা দিতে না পেরে বড় বোনের সোনার চেইন দিয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, আপত্তিকর কোনো ছবি কিংবা ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে সে টাকা নিতো। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মেহেদী পলাতক আছে।
ঝিকরগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

