যশোরের অভয়নগরের নৈশপ্রহরী মিন্টু হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে সোমবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গভীর রাতে অহেতুক ঘোরাঘুরি করার কারণে কানধরে উঠবস করানোর প্রতিশোধ নিতে গামছা পেঁচিয়ে এবং ইট দিয়ে মুখ থেতলে হত্যা করা হয় যশোরের অভয়নগরের নৈশপ্রহরী মিন্টুকে। সোমবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামের ইনাজ বিশ্বাসের ছেলে রায়হান বিশ্বাস (১৯)। বর্তমানে নানার বাড়ি অভয়নগর উপজেলার বাশুয়াড়ি সুখপাড়ায় বসবাস করে। অন্যজন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাউনডাঙ্গা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (১৯)।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, নিহত মিন্টু তরফদার (৬০) নৌ-বন্দরের তালতলা এলাকার সরকার গ্রুপের ঘাটের নৈশপ্রহরী ছিলেন। গত শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে অফিসের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিন্টুর মুখমন্ডল রক্তাক্ত ও গলায় হলুদ রঙের একটি গামছা পেঁচানো ছিল। এই ঘটনায় মিন্টুর স্ত্রী জুলেখা বেগম অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তিনি আরো জানান, পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে ঘাতক রায়হান ও আশিককে শনাক্ত করা হয়। তারা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর নিম্নস্মরণপায়ায় খালা বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালালের আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামি রায়হান ও আশিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
আসামিদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সম্প্রতি গভীর রাতে অভয়নগরের তালতলা এলাকার সরকার ট্রেডার্সের সামনে ঘোরাঘুরিকালে নিরাপত্তা কর্মী মিন্টু তাদের কান ধরে উঠবস করায়। ওই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই তারা পরিকল্পিতভাবে নৈশপ্রহরী মিন্টুকে হত্যা করে।
জাগো/আরএইচএম

