মেট্রোরেলের ৪ টি স্টেশনে যাত্রীরা চাইলে নিজের গাড়ি একেবারে স্টেশনের সিঁড়ি বা লিফটের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবেন। এছাড়া বাস, ট্যাক্সি, অটোরিকশা—এসব গণপরিবহনে আসা যাত্রীরাও স্টেশনের কাছে এসে নামতে পারবেন।
স্টেশন প্লাজা হলো স্টেশনের চত্বরে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা। ঢাকা মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে আছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র জানায়, উত্তরা (উত্তর), আগারগাঁও, ফার্মগেট, কমলাপুর—এই চারটি স্টেশনে প্লাজা নির্মাণ করা হবে। এসব স্থানে হালকা নাশতা করার (স্ন্যাকস) ব্যবস্থা থাকবে।
এর মধ্যে উত্তরা (উত্তর) ও কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীরা চাইলে তাঁদের প্রাইভেট কার দীর্ঘ সময়ের জন্য পার্কিং করতে পারবেন। এর জন্য তাঁদের নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হবে। এই দুটি স্টেশনে আন্ডারগ্রাউন্ড ও মাটির ওপরে বহুতল পার্কিং নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরা (উত্তর) হচ্ছে শুরুর স্টেশন। এর পাশেই মেট্রোরেলের ডিপো আছে। সেখানে ডিএমটিসিএলের নিজস্ব জমিও আছে। ওই জমিতেই একটা পরিবহন টার্মিনালের মতো নির্মাণ করা হবে। এতে গণপরিবহন এসে যাত্রী নামানো ও উঠানোর কাজ করতে পারবে। প্রাইভেট কার যাত্রী নামিয়ে চলে যাবে। চাইলে কেউ দীর্ঘসময়ের জন্য টাকা দিয়ে গাড়ি রাখতে পারবেন। একই ব্যবস্থা থাকবে কমলাপুর স্টেশনে। এ স্টেশনটি হবে বর্তমান কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছেই।
উত্তরা ও কমলাপুরের মাঝপথে আগারগাঁও ও ফার্মগেটে দুটি স্টেশন প্লাজা নির্মাণ করা হবে। আগারগাঁওয়ে স্টেশন প্লাজা নির্মাণের জন্য বিমানবাহিনীর যে নার্সারি আছে, সেই জায়গা নেওয়া হয়েছে। আর ফার্মগেটে আনোয়ারা পার্কে স্টেশন প্লাজার নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে মেট্রোরেল প্রকল্পের কিছু অফিস ও স্থাপনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের স্টেশন হবে ১৭টি।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে সরকার মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর ১৬ ডিসেম্বর থেকে মেট্রোরেল চালুর কথা জানালেও শুরুতে শুধু উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের জুনে মেট্রোরেল প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএমটিসিএল।
প্রথম দিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেলের পথ সম্প্রসারণ, স্টেশন প্লাজা নির্মাণ, কিছু স্টেশনে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শকের পেছনে ব৵য় বৃদ্ধি, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাড়তি ভ্যাটসহ বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত হয়েছে। এর জন্য প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ডিএমটিসিএল।
অনুমোদন পেলে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা। সর্বশেষ যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে জাইকা দেবে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। সরকার খরচ করবে ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। শুরুতে জাইকার দেওয়ার কথা ছিল ১৬ হাজার কোটি টাকা।
জাগো/আরএইচএম

