হাফ ডজন মামলার আসামি গাংনী উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি, সমালোচনা

আরো পড়ুন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আতিয়ার রহমান। তিনি অন্তত হাফ ডজন মামলার আসামি। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে জেলার নেতৃবৃন্দরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক।

আতিয়ার রহমান গাংনী উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের সাইফুল ইসলাম সইফুদ্দীনের ছেলে।

জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ২ বছর পর গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেলে গাংনী পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে সম্মেলন শেষে রাতে ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ৩৫০ জন কাউন্সিলর সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচনে ভোট দেন। কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে আতিয়ার রহমান সভাপতি ও মশিউর রহমান পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি হয়েছেন মাহাবুবুল আলম শান্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফ আশরাফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম পানু, বেসরকারি সংস্থা বিষয়ক সম্পাদক মিরুল ইসলাম, কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ হোসেন স্বপন নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের আজমাইন হোসেন টুটুল বলেন, আতিয়ার নওপাড় গ্রামের ওমর আলীকে হত্যাচেষ্টা চালায়। সে মামলায় তার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০০৩ সালের কাথুলি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য আলেয়া খাতুনকে প্রকাশ্যে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আতিয়ারের হামলায় বর্তমানে আলেয়া পঙ্গু জীবনযাপন করছেন। সে মামলায় আতিয়ার রহমান ১ নং আসামি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯১ সালে ধলা গ্রামের নজিবুরকে পেটে ফলা মারেন আতিয়ার রহমান ও তার লোকজন। ২০১৭ সালে আমার বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালায় আতিয়ার ও তার লোকজন। এ ঘটনায় আতিয়ারকে ১ নং আসামি করে একটি মামলা হয়। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই এনামুল হক নইলুকে হত্যা করেন। সে হত্যা মামলার ১ নং আসামি তিনি। তাছাড়া ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর সকালে দুই ভাই জাহারুল ও সাহাদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। সে মামলারও ১ নং আসামি তিনি। ধলার বিল নিয়ে আতিয়ারের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে ২০০০ সালে সাইদুল হোসেন খুন হন। সাম্প্রতিক সময়ে জোড়া খুন মামলায় কারাবন্দি থেকে জামিনে মুক্ত হন আতিয়ারসহ তার সহযোগী অন্তত ৬৩ জন।

উপজেলা কৃষক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, রাজনীতি করতে হলে অনেকের নামেই মামলা হয়। রাজনীতিতে আমার অবদান, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা ও জনসমর্থনের মাধ্যমেই আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। আমার নামে এখন তিনটা হত্যা মামলা রয়েছে, তা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করব। আমার প্রতিপক্ষরাই আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছে। এতে আমার কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

গাংনী ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, হত্যা মামলার আসামি যদি একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি হয়, ভবিষ্যাতে এর খারাপ ফল রাজনীতিবিদদেরই ভোগ করতে হবে।

মেহেরপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, রাজনীতিতে ফ্রেশ এবং নির্ভেজাল মানুষকে নেতৃত্বে আনা দরকার। হত্যা মামলার একজন আসামিকে রাজনৈতিকভাবেই বেমানান দেখাবে। তাকে মানা না মানা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যেই কথা উঠবে।

জেলা কৃষক লীগের সাধরণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন বলেন, আতিয়ার রহমান ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মামলার আসামি হয়েছেন। কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। এখানে সমালোচনা বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু হয়নি।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ খালেক বলেন, কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে আমাদের কিছুই করার বা বলার নেই। কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ