মাছ উৎপাদনের জন্য যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এলাকা গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (২৪ জুলাই) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহবান জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সরকারপ্রধান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবন লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের পর সম্পূর্ণ একটি বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিধ্বস্ত দেশটা গড়ে তুলেছিলেন। নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা যেন পূরণ হয় সে দিকেও দৃষ্টি দিয়েছিলেন। মৎস্য চাষকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বঙ্গবন্ধু কাজ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আমাদের সরকারই এটির উদ্যোগ নেন প্রথম। আমরা সরকার গঠন করে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেই।
পুষ্টি নিরাপত্তায় নজর দেয়ার কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পর আমরা পুষ্টি নিরাপত্তায় নজর দিয়েছি। এই পুষ্টি আসবে মাছ, দুধ ডিম থেকে। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ চাষে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসবে, বেকারত্ব দূর হবে। বাংলাদেশ পারে, আমরাও পারি পদ্মা সেতুতে বাধা দিয়েছিল আমরা দেখিয়েছি বাংলাদেশ পারে, আমরাও পারি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।
মৎস্যখাতকে সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম করে যাচ্ছে। কোভিডের পাশাপাশি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে খাদ্য নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এতো কিছুর পরেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এক লাখ ৬০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয় তবে আকস্মিক বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হয়।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যারা বলতে চান দেশ শ্রীলঙ্কা হবে সেটি এদেশে কখনো হবে না। যারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন হরতাল করে, আন্দোলন করে সরকার হঠাবেন সেটি হবে না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাকে বেছে নেবে তারাই সরকারে আসবে।
সভাপতির বক্তব্য মৎস্যমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ২০০৮-০৯ থেকে বর্তমানে মাছের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ। প্রধানমন্ত্রীর ৪০০টি অভয়ারণ্য করায় মাছের সাফল্য আসছে। গবেষণা ইনস্টিটিউট ৩৬ প্রজাতি মাছ ফিরিয়ে এনেছে। ৫২টি দেশে মাছ রফতানি হচ্ছে দ্রুতই বাণিজ্যিকভাবে করতে পারবো। করোনার সময় ৬ হাজার কোটি টাকার রফতানি হয়। দেশে মাছ ও প্রাণির খাবার যারা করতে চায় তাদের জন্য উৎস করসহ অনেক কর মওকুফে অনেকে আগ্রহী হচ্ছে। পদ্মা সেতুর জন্য মৎস্য সম্পদেও এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পদক দেয়া হয়।

