কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, আমরা এগিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, আমরা এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, এখনও দেশকে ভালোভাবে চালাতে পারছি। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পাঁচটি গৃহ নির্মাণস্থল প্রান্তে যুক্ত ছিলেন। স্থানগুলো হলো লক্ষ্মীপুরের রামগতি, বাগেরহাটের রামপাল, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পঞ্চগড় এবং মাগুরার মহম্মদপুর। উদ্বোধন ঘোষণা করে এসব প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ভূমি ও গৃহহীনদের জমির দলিল, ঘরের চাবিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বুঝিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসকসহ স্থানীয় নেতারা।

একদিকে করোনাভাইরাস সংকট, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বাস্তবতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর স্যাংশন দিয়েছে। ফলে আমাদের সার কিনতে সমস্যা হচ্ছে, খাদ্য কিনতে সমস্যা হচ্ছে। স্যাংসন দেয়ায় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। খাদ্যের জন্য হাহাকার এবং উন্নত দেশগুলোতেও সেই হাহাকার দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লন্ডনে এক লিটারের বেশি কেউ খাবার তেল কিনতে পারে না। আর আমাদের এখানে তো এখনই ইচ্ছা করলে পাঁচ লিটার পর্যন্ত কিনতে পারছি। আমরা জোগাড় করে দিচ্ছি। কিন্তু আমি মনে করি, প্রত্যেকেই ভাবতে হবে আমাকে সাশ্রয় করতে হবে। এছাড়া যার যতটুকু জমি আছে, জায়গা আছে সেখানে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এটি। কাজেই মানুষের জন্যই আমাদের কাজ এবং সেটাই আমরা করে যাচ্ছি।

সম্প্রতি সিলেট সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় বন্যা কবলিত মানুষের পাশে সরকার ও তার দল সহায়তায় হাত নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল- সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে হয়তো আমাদের এই দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা আসবে। এবারও আসতে পারে। সেদিকে মাথায় রেখেই কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

ইংল্যান্ড-স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে দাবানলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই সেখানে আগুন জ্বলছে। বাড়ি-ঘর, রেললাইনগুলো গলে গলে যাচ্ছে। ট্রেন চলতে পারে না। হিথরো এয়ারপোর্টে প্লেন নামতে পারে না। রানওয়ের পিস গলে যাচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি যেতে পারে না। একটা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব জায়গায়।

তিনি আরো বলেন, এটা এক প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ, আমরা জানি কী কী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে? তার জন্য নিজেদের সঞ্চয়ও করতে হবে। নিজস্ব সঞ্চয় আপনাদের রাখতে হবে, সেটা খাদ্য হোক, অর্থ হোক- যেভাবে হোক। আপদকালীন সময়ে যেন আপনার পরিবার কষ্ট না পায়- সেই ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে। আর আমরা সবসময় পাশে আছি, থাকব। ইনশাল্লাহ আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখি। জাতির পিতা আমাদের সেটা শিখিয়েছেন। সেই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা চলছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলবেন তখন বিদেশি এক সাংবাদিক তাকে বলেছিলেন, আপনার তো কিছুই নেই। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার মাটি আছে, মানুষ আছে। এই মাটি আর মানুষ দিয়েই আমার দেশ গড়ব। আমিও এটা বিশ্বাস করি। আমাদের উর্বর ভূমি আর মানুষ মিলে যদি কাজ করি ইনশাল্লাহ এই দেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা দেশের স্বাধীনতা এনে এনে দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতাকে অবশ্যই অর্থবহ ও জীবনমান উন্নত করতে হবে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ইনশাল্লাহ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ডিজিটাল উপস্থাপনা করেন আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। প্রকল্পএলাকাতে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা। লক্ষ্মীপুরের রামগতি চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ। সেখানে স্থানীয় নেতা এমপিসহ প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এম এম ইমরুল কায়েস রানা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ