আমেরিকার বিবেচনা করা উচিত, স্যাংশনে তাদের দেশের লোকও কষ্ট পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আরো পড়ুন

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্য আমদানিতে বিরাট বাধা আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা কোথায় আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পাব সেই প্রাপ্তির ক্ষেত্রটাও সংকুচিত হয়ে গেছে। এই প্রভাবটা শুধু বাংলাদেশ না, এটা আমি মনে করি, আমেরিকা, ইউরোপ, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে সারা বিশ্বব্যাপী এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষ কিন্তু কষ্ট ভোগ করছে। এটা উন্নত দেশগুলোর বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত।

আমেরিকার এটা বিবেচনা করা উচিত, তারা যে স্যাংশন দিচ্ছে তাতে তাদের দেশের লোকও যে কষ্ট পাচ্ছে। সে দিকেও তাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা ভবন উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় আমরা শান্তি চাই। জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন আমাদের পররাষ্ট্র নীতি সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরীতা নয় এবং সেই নীতিটা যথাযথভাবে আমি মেনে চলি, আমাদের রাষ্ট্র মেনে চলে। কারণ আমি সব সময় বিশ্বাস করি, আমার দেশের মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে। তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে উন্নত জীবন দিতে হবে। বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ, প্রতি নিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে চলতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সব সময় এই দেশ ঝুঁকিতে থাকে। কাজে এ দেশের মানুষগুলোকে একটু সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেয়া, তাদের জীবনটাকে অর্থবহ করে দেয়া এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আজকে আমরা প্রত্যেকটা বাড়িতে, একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত, এমনকি আমাদের দ্বীপ অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যেমন ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিচ্ছি, পাশাপাশি বিদ্যুৎও পৌঁছে দিয়ে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ ব্যাপকভাবে নির্মাণ করে সেটা উন্নত করছি। ২৫ জুন আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছি যেটা দক্ষিণ অঞ্চলের ২১টা জেলার মানুষ আর্থ-সামাজিকভাবে নিজেদের জীবনকে উন্নত করতে সক্ষম হবে। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করে উত্তরবঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ দুর্ভিক্ষ দূর করেছিলাম, মঙ্গা দূর করেছিলাম আর এবার দক্ষিণ অঞ্চল সংযুক্ত করার ফলে এ অঞ্চলের উন্নতি হবে। বাংলাদেশের মানুষ সবাই সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমাদের দুর্ভাগ্য, যখন সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসে আক্রন্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ঠিক সেই সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে সারা বিশ্বব্যাপী মানুষের অবস্থাটা আরও করুণ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর আমেরিকা স্যাংশন দেয়ার ফলে আমাদের পণ্য প্রাপ্তিতে, যেগুলো আমরা আমদানি করি সেখানে বিরাট বাধা আসছে। শুধু তাই না, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে এবং আমরা কোথায় আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পাব সেই প্রাপ্তির ক্ষেত্রটাও সংকুচিত হয়ে গেছে। এই প্রভাবটা শুধু বাংলাদেশ না, এটা আমি মনে করি, আমেরিকা, ইউরোপ, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে সারা বিশ্বব্যাপী এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষ কিন্তু কষ্ট ভোগ করছে। এটা উন্নত দেশগুলোর বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত। আমেরিকার এটা বিবেচনা করা উচিত, তারা যে স্যাংশন দিচ্ছে তাতে তাদের দেশের লোকও যে কষ্ট পাচ্ছে। সে দিকেও তাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

এই স্যাংশন যাদের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন তাদের আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন কিন্তু কতটুকু তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ হচ্ছে, সব দেশের। উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ বা সকল দেশের মানুষই কিন্তু…যারা নিম্ন আয়ের দেশ, সব দেশই কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে। কারণ করোনা মহামারি থেকে কেবল আমরা একটু উদ্ধার পাচ্ছিলাম। তখনই এই যুদ্ধ আর স্যাংশন, বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ