যশোরে ন্যায্য দামে মিলছে না সার, দিশেহারা কৃষক!

আরো পড়ুন

মুনতাসির আল ইমরান: যশোরের সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক শ্রেনীর বিক্রেতা বেশি দামে সার বিক্রি করার জন্যই এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের কারণে উচ্চ মূল্য দিয়েই কৃষককে চাহিদামত সার কিনতে হচ্ছে। এতে তারা একদিকে যেমন হয়রাণির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে বেশি মূল্য দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।

ক্রেতারা অভিযোগ করে জানান, বাজারে খুচরা সার কিনতে গেলে পাওয়া যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে সার নেই। আবার বেশি টাকা দিলে ঠিকই সার মিলছে। টিএসপি এবং এমওপি সার খুচরা দোকানে পাওয়া যাচ্ছেনা। আবার কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিলে তারাই সার সংগ্রহ করে দিচ্ছেন।

যশোর জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চাহিদা অনুপাতে চলতি বছরে জেলায় মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯ মেট্রিকটন সার ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ১৫ হাজার ২৯৬ মেট্রিকটন, ইউরিয়া ৫৯ হাজার ৭৪৯ মেট্রিকটন, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ২৩ হাজার ৭৬৮ মেট্রিকটন ও ডিএপি ৪৩ হাজার ১৯৬ মেট্রিকটন। চলতি জুন মাসে চাহিদা অনুপাতে ইউরিয়া ৩ হাজার ৬২ মেট্রিকটন, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৭২৬ মেট্রিকটন, ডিএপি ২,২৮৭ মেট্রিকটন ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ১,৩২৭ মেট্রিকটন ডিলারদের দেয়া হয়েছে।

প্রতি কেজি সারের সরকারে নির্ধারিত দাম হলো, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ২২ টাকা, ইউরিয়া ১৬ টাকা, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ১৫ টাকা ও ডিএপি ১৬ টাকা । তবে যশোরের বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে জানাযায়, প্রতি কেজি ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৮-২২ টাকা, টিএসপি, পটাশ এবং ডিএপি ৩০-৩৫ টাকা দরে । বিভিন্ন দোকানে সরকারে মূল্য তালিকা ঝোলানো থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌগাছার এক ডিলার বলেন, ‘আমি ডিলার হয়েও ন্যায্য দামে সার কিনতে পারছি না। সরকারি রেটে বিক্রি করবো কী করে। তিনি আরও বলেন, ‘৫০ কেজি ইউরিয়া সারের বস্তা আমার দোকান পর্যন্ত ৭৭৫ টাকায় পৌঁছানোর কথা। কিন্তু আমাকে কিনতে হচ্ছে ৮২০ টাকায় ।’

যশোর সদর উপজেলা চুড়মনকাটির কৃষক আমিন উদ্দিন বলেন, ডিলাররা চাহিদা অনুসারে সার পাচ্ছে না বলে প্রচার করছেন। আবার বেশি দাম দিলে ঠিকই সার মিলছে। ডিলাররা কোনো কৃষককে সার বিক্রির রশিদ দিচ্ছেন না। কেউ তাদের কাছে সার বিক্রির রশিদ চাইলে, সেই কৃষকের কাছে সার বিক্রি করছেন না।’

চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের চাষি আলাউদ্দিন বলেন, ‘বোরো ধানের পরে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি আউশ ধানের। দেশের উৎপাদিত টিএসপি সার দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি টিএসপি ও এমওপি সার কিনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। যদিও এই সারের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে ২২ টাকা করে।’

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কার দাশ বলেন, ‘আমরা সব সময় বাজার মনিটরিং করছি। পাশাপাশি কৃষকের মৌখিক অভিযোগ পেলেও আমরা সেই সব প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। তাদের সাথে কথা বলছি। সমাধান দেয়া চেষ্টা করছি। এ ছাড়াও যদি ডিলাররা বেশি দাম নিয়ে থাকেন, এমন কোন লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সারের কোন ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুপাতে চলতি জুন মাসে ডিলারদের ইউরিয়া ৩,০৬২ মেট্রিকটন, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৭২৬ মেট্রিকটন, ডিএপি ২,২৮৭ মেট্রিকটন, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ১,৩২৭ মেট্রিকটন সার দেয়া হয়েছে।

বিএডিসি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে সারের কোন সংকট নেই। যদি কোন ডিলার বা দোকানদার বেশি দামে সার বিক্রি করেন, তাহলে তিনি অন্যায় করছেন। তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া জন্য কৃষকদের অনুরোধ করেন তিনি। আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই ডিলারে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ