শেরপুর: ‘ভাইয়ার মরদেহ আনতে দিতে হয়েছে টাকা। টাকা না দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছে। কারণ শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পর ভাইয়ার (রনির) অজ্ঞাত নামে খাতায় লিপিবদ্ধ ছিল।’
মঙ্গলবার (৭ মে) সকালে এমন অভিযোগ করেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী রমজানুল ইসলাম রনির (২৫) ভাই তারিকুল ইসলাম রকি।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই রনি দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা গেলেন। অথচ হাসপাতালে আমার মাসহ আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কেউ আমাদের সহযোগিতা করেনি। বরং অজ্ঞাত থেকে সঠিক নাম-পরিচয়ে তালিকাবদ্ধ করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা চেয়েছে।
সর্বশেষ ময়না তদন্ত শেষ হওয়ার পর ডোমকেও টাকা দিতে হয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশটিও বের করতে দেরি করেছে তারা। লাশটি প্যাঁচানোর জন্য পলিথিনও কিনতে হয়েছে আমাদের। তাই ভাইয়ার (রনির) লাশ হাসপাতাল থেকে বের করতে আমাদের সন্ধ্যা হয়েছে।
তবে অভিযোগ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বলেন, বিএম ডিপোর ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিতে টাকা দিতে হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ এখনো কেউ করেনি। লাশঘরের দায়িত্বে যারা থাকে, তারা দিনরাত কাজ করছে। অনেক চাপের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রনির লাশবাহী গাড়ি মঙ্গলবার (৭ জুন) ভোরে তার শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের বালুঘাটা গ্রামে প্রবেশ করে। মরদেহ পৌঁছার পর থেকেই স্থানীয় জনগণের ভিড় বাড়ে তার বাড়িতে।
এরপর সকাল ৯টায় শেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা তাকে গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। সকাল ১০টায় ফায়ার ফাইটার রনির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজার দায়িত্বে ছিলেন রনির চাচা মুফতি নজরুল ইসলাম আজাদী। জানাজায় রনির আত্মীয়স্বজনসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, রমজানুল ইসলাম রনি দেড় বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। তিন মাস আগে তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বদলি হন। আট মাস আগে বিয়ে করে স্ত্রী রুপাকে নিয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
জাগো/এমআই

