গত কিছুদিন ধরেই সরকার আমলানির্ভর হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পরপরই আমলারা সবকিছু নিজের কর্তৃত্বে নিয়েছিল। জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত আমলারাই নীতিনির্ধারক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা কম হয়নি। বলা হচ্ছিলো সরকার আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আমলারাই দেশ চালাচ্ছে। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে সরকার। ক্রমশ রাজনীতিবিদরা সামনে আসছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ক্ষেত্রে সমস্ত আয়োজন এবং আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব আমলাদের দেয়া হয়নি, দেয়া হয়েছে রাজনীতিবিদদেরকে। সেখানে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনকে মূল দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আরেক রাজনীতিবিদ মির্জা আজমকে। এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে উৎসব আয়োজনে সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সামনে আনা হয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, এস এম কামালসহ আরো অনেকে। এটি সরকারের দিক থেকে বড় একটি বার্তা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুধু এটিই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও আমলাদের পরাজয় ঘটেছে।
রাজনীতিবিদদের বিজয় ঘটেছে। সরকার এখন আমলাদের কাছ থেকে আস্তে আস্তে কর্তৃত্বের চাবি রাজনীতিবিদদের হাতে দিতে চাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগামী দেড় বছরের মধ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারের ওপর বিরোধীদলগুলো নানামুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। আর এসব বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত সরকার রাজনীতিবিদদের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সামনে কিছুদিনের মধ্যেই বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন মোকাবেলা করতে হবে। সেটি আমলা বা প্রশাসন দিয়ে সম্ভব নয়। তাছাড়া এখন নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নের বিষয়টিও সরকারের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য আমলাদের চেয়ে রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব বেশি দেয়া হবে বলেই সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় করণ যেটি মনে হচ্ছে, আমলাদের মধ্যে কারও কারও এখন নিরপেক্ষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই এখন গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যারা উচ্চ পদে আছে, তারা এখন নানারকম অজুহাতে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ খুঁজছেন। মাঠ প্রশাসনে যাদেরকে এখন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তারা সবাই দীর্ঘমেয়াদী চাকরির আশা করছেন এবং নির্বাচনের আগে যতটা পারেন নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে চাচ্ছেন। আর এই কারণেই সরকার আমলাদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে রাজনীতিবিদদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদেরকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সরকার কখনোই আমলাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। আমলারা তাদের রুটিন দায়িত্বই পালন করেছে। করোনার সময় যখন একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল, তখন জেলার দায়িত্ব সচিবদের উপর দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি একটি সামরিক ব্যবস্থা। তার মানে এই নয় যে, সরকার আমলা নির্ভর হয়ে পড়েছে। যারা সরকারকে আমলা নির্ভর মনে করে তারা আসলে ভুল করছে বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন। কারণ দেশ চালানোর ক্ষেত্রে মূল প্রাণশক্তি হলেন শেখ হাসিনা। তিনি একজন রাজনীতিবিদ।

