নাটোরে টিকটক করার অভিযোগে স্কুল থেকে ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও বিক্ষোভ হয়েছে ।
স্কুল চলাকালে সদর উপজেলার চন্দ্রকলা এসআই বিদ্যালয়ে রবিবার (২৯ মে) বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান শাহ বলেন, শনিবার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বুলবুল আহমেদ স্কুলের নবম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে টিকটক করার অভিযোগ এনে তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যাদের বহিষ্কার করা হয় তাদের মধ্যে একজন ছাত্রী।
রবিবার সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে বিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানতে পারে। পরে তারা বহিষ্কারের কারণ জানতে চাইলে তাদের হাতে বিদ্যালয়ের ছাড়পত্র ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগ দিয়ে স্কুলের জানালাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বুলবুল আহমেদ জানান, ওই তিন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসাদাচরণসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের অভিভাবককে ডেকে একাধিকবার সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাদের অভিভাবকরা মুচলেকাও দিয়েছে। তবে তাদের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সম্প্রতি তিনজন মিলে বিদ্যালয় চলাকালে টিকটক ভিডিও করে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বহিষ্কার করা হয়। একটি পক্ষ এই শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা করিয়েছে। এ বিষয়ে মামলা করা হবে।
ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বহিষ্কার হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, টিকটক করে তার মেয়ে ভুল করেছে। বিষয়টি তাদের জানাতে পারত। তা না করে সরাসরি বহিষ্কার করায় সন্তানের ভবিষৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছ। কারণ নবম শ্রেণিতে নতুন করে ভর্তি করা ঝমেলা। এটা ঠিক হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হুটহাট বহিষ্কার করা ঠিক হয়নি। অপরাধ করলে আমাদের সতর্ক করতে পারত। আমাদের একটাই দোষ আমরা বালিয়াডাঙ্গার ছেলে। সভাপতি বালিয়াডাঙ্গার লোকজনকে কেন যেন দেখতে পারেন না।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকতার হোসেন বলেন, চন্দ্রকোলা এসআই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ইতোমধ্যে আমি জেলা প্রশাসক, ইউএনও, বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। ডিসি মহোদয় একটা তদন্ত কমিটি করে দেবেন। আমি সরেজমিনে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

