বড় আমদানি ব্যয় পরিশোধের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে গিয়েছিলো ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে। গত ১০ মে আমদানি ব্যয় হিসেবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করায় রিজার্ভ সেদিনের স্থিতি ছিল ৪১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। তবে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে আরো ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ায় ফের ৪২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বৃহস্পতিবারের হালনাগাদ তথ্য বলছে, আকুর দেনা পরিশোধ এবং আরো কিছু অর্থ লেনদেনের পর ৪২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল রিজার্ভের পরিমাণ ছিলো ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড ৪৮ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ। টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটের মধ্যে গত ১০ মে আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসার দিনই টাকার মান ২৫ পয়সা কমানো হয়। পরে আরেক দফায় আরো ৮০ পয়সা কমিয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার আন্তঃব্যাংকে নির্ধারণ করা হয় ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। তবে খোলাবাজারে ডলারের বিনিময় হার উঠেছিল ১০২ টাকায়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৬ হাজার ১৫২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে আমদানিতে। এ হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের বেশি সময়ের আমদানি বিল পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন বলে রেমিট্যান্সও বেশি পাঠাচ্ছেন। আবার আসন্ন কোরবানির ঈদের প্রভাবও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের ধারা আরো বেগবান হবে।

