যশোরে ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’

আরো পড়ুন

যশোর: পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) পর এবার যশোরের মণিরামপুরে হবে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’। পাঁচ একর জমির ওপর প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়, যা শুধুমাত্র একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপির প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এরমধ্যে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার জায়গাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্রজট কাটিয়ে পুরো প্রকল্পটি এখন পরবর্তী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে উপজেলার মাছনা ১০৩ নম্বর মৌজায় ৫ একর জমির ওপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন হয়।

কানুনগো আকরামুল ইসলাম জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যার প্রতিবেদন আকারে ২০২১ সালের ৩১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

আরো জানা যায়, বস্ত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রকল্প পূর্ত ও নির্মাণ কাজের ব্যয় প্রাক্কলন প্রেরণে ২০২১ সালের ৩ আগস্ট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পত্র দেয়া হয়। সে মোতাবেক যশোর জেলা গণপূর্ত বিভাগ যাছাই-বাছাই পূর্বক ১১০ কোটি ৫৮ হাজার প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় নিরূপণ করে ২০২১ সালের ৮ আগস্ট গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরে পরিবেশ অধিদফতরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার জায়গাটি পরিদর্শন করে ২০২১ সালের ১২ আগস্ট ছাড়পত্র প্রদান করে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে ডিপিপি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রণালয়ে রয়েছে। পরবর্তী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীসহ বেকার শ্রেণি টেক্সটাইল সংক্রান্ত ৪ বছর, ৬ মাস, ৪ মাস ও ২ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।

এই প্রকল্পের মধ্যে লিফটসহ ৬ তলা ভবনের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, ৬ তলা ভবনের ২০০ বেডের ছাত্রাবাস, ৪ তলা ভবনের ১০০ বেডের ছাত্রী নিবাস, দ্বিতল ভবনের প্রিন্সিপাল কোয়ার্টাার, কর্মকর্তা ও স্টাফ ডরমেটরি, স্পিনিং শেড (উইভিং ও নীটিং), ডাইং শেড, ওয়ার্কশপ কাম লাইব্রেরি, কালবার্ট, পানি সরবরাহসহ পয়ঃনিষ্কাশন, সীমানা প্রাচীর, মসজিদ, সোলার প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংরক্ষাণাগারসহ পুকুর নির্মাণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

যশোর জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, পুরো প্রকল্পটি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য মহোদয় স্যার দেখভাল করছেন। অনেক আগেই প্রকল্পটি প্রস্তাবনা আকারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

দ্রুত এটি অনুমোদন লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ