যশোরে ১৮০ টাকার খোলা সয়াবিন তেল এখন ২২২ টাকা, ‘গায়েব’ বোতলজাত তেল

আরো পড়ুন

যশোর শহরের বারান্দিপাড়া বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা পিয়াঙ্কা বিশ্বাস। সকালে রান্না করতে যেয়ে সয়াবিন তেল শেষ হয়ে যায়। তাই অফিস শেষে বাড়ি ফিরার পথে শহরের বড় বাজারে তেল কিনতে আসেন। কিন্তু কোনো মুদি দোকানে তিনি বোতলজাত তেলে কিনতে না পেরে ২২০ টাকা লিটারে খোলা সয়াবিন তেল নিতে বাধ্য হন পিয়াঙ্কা বিশ্বাস।

শুধু পিয়াঙ্কা বিশ্বাস নয়, তারা মতো অনেক মানুষ বোতলজাত তেল কিনতে যেয়ে খোলা সয়াবিন তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে নির্ধারিত মূল্য চেয়ে ৪০ থেকে ৪২ টাকা বেশি দরে।

অন্যদিকে দোকানিরা বলছেন, ঈদের আগে থেকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপর থেকে যশোরের বাজারগুলোতে বোতলজাত তেল গায়েব।

পিয়াঙ্কা বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের পর দিন খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়তেই আছে। তার ওপর বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল গায়েব। রাতারাতি এতো তেল যাচ্ছে কোথায়? তিনি আরো বলেন, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য বাজার মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ সংসার চালাবে কিভাবে আর বাঁচবে কি করে।

জানা যায়, গত কয়েক দিন যাবৎ ক্রমান্বয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যশোরের অলিতে-গলিতে এবং বড় বাজারগুলোতে কোথাও সয়াবিন তেলের বোতল নেই। যা ছিল তা অনেক আগেই সবাই কেটে তা খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করছে। আবার অনেকেই তেলের অত্যাধিক মূল্য বৃদ্ধি এবং তেলের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থার কারণে দোকানে সয়াবিন তেল তুলছেন না।

ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হবে ১৯৮ টাকা। আর ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেল প্রতি লিটার ১৭২ টাকায় বিক্রি হবে।

রবিবার সরেজমিনে যশোর বড় বাজার, আরবপুর, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত ১৮০ টাকার তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০/২১২ টাকা লিটার। অন্যদিকে বাজারে কোন দোকানে মিলছে না বোতলজাত কোনো কোম্পানির তেল।

যশোর বড় বাজারে জয় তারা ভান্ডারে অধিকারী কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, আপনার যদি বোতল তেল লাগে। তাহলে ফ্রেশ বোতল নিয়ে আসেন, আমি আপনাকে কোম্পানির বোতলের তেল ভরে দিচ্ছি আপনার ফ্রেশ বোতলে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বাজারে খোলা তেলে দাম বৃদ্ধি পাওয়া, অনেক আগেই সবাই কেটে তা খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করছে। এজন্য বাজারে কোম্পানির বোতল তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

যশোর মসলা ঘরে কথা হয় ম্যানেজার আরমান আলীর সাথে। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে প্রত্যেকটা কোম্পানিকে বলছি তেল দেয়ার জন্য। কিন্তু তারা দিবো দিবো করে তেল দিচ্ছে না। বলছে তেল নাই। অনেকে কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ বাজারেই আসছে না। আবার অনেকে ফোন ধরছে না।

যশোর মাঠ ও বাজার পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রবিবার জেলা প্রশাসকের সাথে এই বিষয়ে মিটিং হয়েছে। সোমবার (৯ মে) সকাল থেকে আমরা বাজার মনিটরিং করবো।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ