সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানের শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

আরো পড়ুন

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর পরিপেক্ষিতে কিছু কাগজপত্র চেয়ে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রবিউল ইসলামকে কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিলো। ধার্য দিনে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে তিনি স্বশরীরে হাজির হয়ে কিছু কাগজপত্র জমা দেন এবং বাকী কাগজপত্রের জন্য কিছুদিন সময় চাইলে তা মঞ্জুর করে দুদক।

হাজি রবিউল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি। তার বাড়ি কুষ্টিয়া পৌরসভার হরিশংকরপুর এলাকায়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। ২২টি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য দিয়ে বলা হয়, তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেয়ার পরবর্তী তিন বছরে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপেক্ষিতে ১২ এপ্রিল দুদক কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল হাজি রবিউল ইসলামকে চিঠি দেন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার ওই কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন।

দুদক কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকারিয়া জানান, শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া দুদক কার্যালয়ে এসে কিছু কাগজপত্র জমা দিয়ে বাকী কাগজপত্রের জন্য কিছুদিন সময় চাওয়ায় তাকে ৭ দিনের মধ্যে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। নোটিশে রবিউল ইসলামসহ তার স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, নোটিশে হাজি রবিউল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ ও পাসপোর্টের ফটোকপি, তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর সম্পদের (জমি, প্লট, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খামার, ফার্ম ও অন্যান্য) দলিল, অনুমোদিত নকশা, লিজ/বরাদ্দ/ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র; অস্থাবর সম্পদ (সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, বন্ড, শেয়ার বিনিয়োগ, গাড়ি ও অন্যান্য) ক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র এবং ব্যাংক হিসাব ও ডিপোজিট স্কিমের (যদি থাকে) বিবরণী; তাদের নামে (ব্যক্তিগত/ব্যবসায়িক) শুরু থেকে সর্বশেষ দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের সার্টিফাইড কপি; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য থেকে গৃহীত ঋণ/দায়সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ