নিজস্ব প্রতিবেদক: পোশাকের কাপড়, রঙ-বুনন-ডিজাইন সব মনের মত। কিন্তু শেষমেষ দেখা গেল মাপ জুতসই হচ্ছে না। হয় ঝুল অনেক বেশি; নয়তো অনেক কম কিংবা গায়ে চাপানো, একেবারে আঁটোসাটো। রেডিমেড পোশাক কেনার এসব বিড়ম্বনা এড়িয়ে চলতে চান অনেকেই। তাই সঠিক মাপে পছন্দের পোশাক বানাতে অনেকেই এখন ছুটছেন দর্জিপাড়ায়। ফলে ঈদের বাজারে ব্যস্ততা বেড়েছে পাড়ামহল্লার টেইলারিং শপে। সেলাই মেশিনের একটানা শব্দের মাঝে আনন্দঘন ব্যস্ততায় যশোরের দর্জিপাড়ার কারিগররা।
যশোরের শহরের বিভিন্ন দর্জি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গলায় ফিতে ঝুলিয়ে রঙিন চক দিয়ে কাপড়ে দাগ কাটছেন কাটিং মাস্টাররা। ‘ঘচঘচ’ করে কাপড়ে কাঁচি চালাচ্ছেন। স্বযত্নে মেপে মেপে কাপড় কেটে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের আকার আনছেন। এরকম ব্যস্ততার মাঝে যখন কোন গ্রাহক পোশাক বানাতে আসছেন ঝটপট মাপজোক নিয়ে নিচ্ছেন। মাস্টারের হাতে কাপড় কাটা শেষ হলে সেলাইয়ের জন্য চলে যাচ্ছে কারিগরদের কাছে। এরকম দৃশ্য শহরের বিভিন্ন নামীদামী দর্জির দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার টেইলাইরিং শপে।
দর্জিপাড়ার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগ থেকেই কমবেশি পোশাক তৈরির অর্ডার আসছে। রোজার পর থেকে অর্ডার বাড়ছে। ফলে কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে তত বাড়বে কাজের চাপ। বাড়বে ঈদ বাজারের ব্যস্ততা।
শহরের আরবপুর নাবিলা টেইলার্সের সত্তাধিকারী আজমল হোসেন বলেন, রোজার আগে থেকেই পোশাকের অর্ডার আসছে। কারিগাররা পোশাক রেডি করে ডেলিভারি দিয়ে দিচ্ছি। ইতিমধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
যশোর শহরের ওয়াপদা গ্যারেজ মোড়ের মুন্নি টেইলার্স’র প্রোপ্রাইটর মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘গত বছরে করোনার কারণে কাজ কম ছিল। ফলে কোন রকম ব্যবসা হয়েছিল। তবে এবার প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। রাত দিন মিলে কাজ করছে কারিগররা।’
মারুফ টেইলার্স’র সত্তাধিকারী মারুফ হোসেনের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘সারা বছর যে পরিমাণ কাজ হয়; তার চেয়ে দুই ঈদে কাজের পরিমাণ বেশি। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার অর্ডার পাচ্ছি ভালো। ঈদ বাজারে একসেট সালোয়ার কামিজের মুজরি ধরা হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। শুধু সালোয়ার বানালে মজুরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ’
দর্জির দোকানে কথা হয় সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্রী সাদিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘মার্কেট থেকে পোশাক কিনলে অন্যের পোশাকের সাথে মিলে যাবে। তাই অর্ডার দিয়ে নিজের চাহিদা মত পোশাক তৈরি করছি।
লাকি আক্তার নামের আর একজন বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে থ্রি পিস বানাতে দর্জির দোকানে এসেছি। মাপ দিয়ে পোশাক তৈরি করলে সেটা ফিটিং ভাল হয়। রেডিমেট জামা থেকে তৈরি করা ভালো।’
কালেক্টরেট মার্কেটের ইউনুস টেইলার্সের সত্তাধিকারী ইউনুচ আলী, প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। তবে শার্ট ও প্যান্টের অর্ডার কম। তবে পাঞ্জাবি ও পাজামার অর্ডার বেশি। পোশাক ডেলিভারি দেয়ার সুবিধাতে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। পুরুষদের শার্টের মজুরি ৩০০ টাকা, প্যান্ট ৪০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০ ও পাজামা ৩০০ টাকা।’
জাগো/এমআই

