নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বেড়েই চলেছে খুনের ঘটনা। একের পর এক হচ্ছে নিরহী মানুষ খুন। আবার অনেকে হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। যশোরের ৩টি স্পটে ৭ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত খুন হয়েছে ৪ জন। শুধু হত্যার নয়; চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হর-হামেশা। দ্রুত পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপ দাবি করেছে যশোরের সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড়ে একই গ্রামের আফজাল খানের ছেলে বিপুল ও মুকুলের নেতৃত্বে চাপাতি, হাসুয়া, লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুই ভাই ইউনুস আলী খান ও আইয়ুব আলী খান। হামলায় জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আইয়ুব আলী খানের ছেলে আসাদুজ্জামান খান রনি। এ জোড়া হত্যার ঘটনা দেশ জুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও হত্যাকারী চারজনকে পুলিশ আটক করেছে।
এ জোড়া হত্যাকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই যশোরের শহরতলী আড়পাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আব্দুর রহমান (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে। এসময় আরও এক যুবককে পিটিয়ে জখম করা হয়। গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪ টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুরের আড়পাড়া গ্রামে জমি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডার পর এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ হত্যায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে।
একইদিন রাতে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের তীরেরহাট কাদিরপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল তরফদারের ছেলে মোটরসাইকেল চালক কাইয়ুম আলী তরফদারকে (৫৫) গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের মাঠ থেকে পুলিশ ওই ভাড়ার মোটরসাইকেল চালকের লাশ উদ্ধার করে। একদিন পর ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার গভীররাতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঝিনাইদহ থেকে অন্তর হোসেন লিখনকে এবং মাগুরা থেকে রায়হানকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে (সিটি-১০০) মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে যশোর কেতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, এসব হত্যাগুলো অনাকাঙ্খিত। একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে, আবার আসামি ও জড়িতদের শনাক্ত করে আটক করা হচ্ছে। থানা এলাকায় পুলিশি টহল ও অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। হত্যাকারী পলাতকদের দ্রুতই আটক করা হবে।
এসব বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রূপন কুমার সরকার বলেন, চৌগাছায় জোড়া খুনের সব আসামিকে আটক ও হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ও হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালক কাইয়ুম আলী তরফদারকে (৫৫) গলা কেটে হত্যা ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। বাকি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকেও পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ও জেলাব্যাপী পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষেরা বলছেন, বর্তমানে খুন, ছিনতাই ও অপহরণ মুড়ি মুড়কির মত ঘটছে। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। পুলিশ আগের মতই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কেন কী কারণে এসব খুন ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে সে বিষয়ে তাদের নেই কোন বাড়তি নজরদারি। ক্রাইম স্পটগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানোসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

