চৌগাছায় বিএডিসির সেচ লাইসেন্স নিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

আরো পড়ুন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় সেচ লাইসেন্স পেতে অর্থবানিজ্য ও গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ উপায়ে সেচ লাইসেন্স দেওয়া এবং টাকা না দিলে লাইসেন্স না দেওয়া এমনকি বৈধ লাইসেন্স নবায়ন না করে বাতিল করার মতো অভিযোগ উঠেছে যশোর বিএডিসির উপ-সহকারি প্রকৌশলি জাকির হোসেন ও তার প্রতিনিধি (ইলেকট্রিশিয়ান) নিয়াজুলের বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগি কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি সেচ স্কিম সরেজমিনে এবং স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এছাড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় বিএডিসির প্রতিনিধি নিয়াজুল একজন লাইসেন্স পেতে আগ্রহী কৃষকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন (সবগুলো ১ হাজার টাকার নোট)। কিন্তু পরবর্তী আরো টাকা না দেওয়ায় তাকে সেই লাইসেন্স দেওয়া হয়নি এমনকি বেশি টাকার বিনিময়ে অন্য একজনকে সেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ভূক্তভোগী।

উপজেলার সুখপুকুরিয়া, আড়শিংড়েপুকুরিয়া, মাধবপুর, ইন্দ্রপুর, বাঘারদাড়ি, মাকাপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সেচ প্রকল্পগুলো দেখলে বোঝা যায় সেখানে সরকারি নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন লাইসেন্স পেতে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা করে খরচ হয়।

সরকারি নিয়মে দুটি গভীর নলকুপের মধ্যে দূরত্ব হবে ২৫০০ ফুট এবং একটি গভীর নলকুপ হতে একটি অগভীর নলকুপের দূরত্ব হবে ৮০০ ফুট। তবে উপজেলা সেচ কমিটি প্রদত্ত বিভিন্ন লাইসেন্সের নলকুপগুলোয় দেখা যায় একটি অগভীর নলকুপ থেকে অন্যটির দূরত্ব ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ ফুট। এছাড়াও বিএডিসির এই দূর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কারনে দীর্ঘদিন আবেদন করা কৃষকরাও শুধু টাকা দিতে না পারার কারনে সেচ লাইসেন্স পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি ভগবানপুর গ্রামের সেচ স্কীমে একটি অগভীর নলকুপ থাকা সত্বেও তার ১৩০০ ফুটের মধ্যে আরো একটি গভীর নলকুপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আড়কান্দি গ্রামের আবু তাহের বলেন, ২০২১ সালের জুন/জুলাই মাসে তার কৃষি জমিতে অগভীর নলকূপের লাইসেন্সর জন্য নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত মেনে সেচ কমিটি বরাবর আবেদন করেন।। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসির উপ-সহকারি প্রকৌশলি জাকির হোসেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার প্রতিনিধি নিয়াজুল বলেন, কমিটির সকলে মিলে যাচাই করে তবে লাইসেন্স দেয়। আমার একার কোনো দোষ নেই।

সেচ লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ড.মোস্তানিছুর রহমান বলেন,আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকলে বলেন। তখন এই সকল বিষয়ে তাকে জানানো হলে তিনি দেখবেন বলে জানান।

উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ