চৌগাছায় আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে জোর করে স্কুল কমিটির প্রার্থীতা প্রত্যাহারের অভিযোগ

আরো পড়ুন

রায়হান হোসেন, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহবুবুল আলম রিংকু এবং শ্রম ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বকুলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টায় অভিযোগ দেয়ার সময় তার সাথে ১৮/২০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে তিনি নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি। বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত তফসিল অনুসারে আমার নেতৃত্বে গত ২০ মার্চ ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করি। ২১ মার্চ মনোনয়নপত্রগুলো বৈধ বলে বিবেচিত হয়। পরে ২১ মার্চ গভীর রাতে স্বরুপদাহ গ্রামের সানোয়ার হোসেন বকুল ও মাহবুবুল আলম রিংকুর নেতৃত্বে আমার প্যানেলের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।

২২ মার্চ ওই দুই জনের নেতৃত্বে আমার প্যানেলের প্রার্থী তরিকুল ইসলামের কর্মক্ষেত্র তানজিলা ব্রিকস-এ প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এরপরই ওই গ্রুপটি আমর প্যানেলের প্রার্থী হুমায়ন কবির উজ্জলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কপোতাক্ষ ব্রিজের পাশে টিপুর সারের দোকানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এছাড়া তারা আমার প্রার্থীদের বাড়িবাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহুর্তে বড় ধরনের মারামারি অথবা খুন জখমের সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত ঘোষিত নির্বাচন বাতিল করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অপর একটি লিখিত অভিযোগে বিপুল হোসেন বলেন, আমি স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নির্বাচনে একজন অভিভাবক সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। মঙ্গলবার (২২মার্চ) বিকেল টায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জানতে পারলাম কে বা কারা আমার স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়ন প্রত্যাহারপত্র জমা দিয়েছে। আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে সম্মত নই। অতএব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহবুবুল আলম রিংকু এবং শ্রম ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বকুল উভয়েই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন প্রার্থীরা নিজেরাই তাদের প্রত্যাহারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

এবিষয়ে স্বরুপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল কদর বলেন, জোর করে বা স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানোর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক। দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা অভিযোগ দুটি পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ