নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবার অভিযোগ, গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় আমার মেয়ে প্রতিবেশি এক যুবকের বাইসাইকেলে করে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। পরে ফেরার পথে তাদের বাইসাইকেল গতিরোধ করে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে এনেই দুইজনকেই অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান, তার কর্মীবাহিনী আইযুব আলী,ভুট্ট, আব্দুল আলীমসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন। একপর্যায়ে তাদের দুইজনকে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে তারা। খবর পেয়ে তাদের দুই জনকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও ধাক্কা দিয়ে তারা চলে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের দুইজনকে বিনাদোষে অমানবিক নির্যাতন করেছে। এই নির্যাতনকারীদের বিচার চাই।
ভিডিওতে
১ মিনিট ২৯ সেকেন্ড এবং ৪৪ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি দোকানে অর্ধশতাধিক দোকানের ভিতরে তরুণীকে এলোপাতাড়ি জুতা পিটা করছে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান। ওই তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ইউপি সদস্যর পাশে থাকা কয়েক যুবক লাথিও দেন। অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগের তরুণীর সাথে থাকা যুবককেও এলাপাতাড়ি মারধর করছে ইউপি সদস্য ও তার সাথে থাকা কয়েকজন যুবক। পরে আর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কয়েক যুবক তরুণীর হাত ও পা ধরে রেখেছে। ইউপি সদস্যের অনুসারী আইয়ুব, ভুট্ট আর আব্দুল আলীমসহ তিন থেকে ৪ জন বিভিন্ন লাঠি দিয়ে তরুণীকে হাতে পায়ের গুড়ালিতে বেধড়ক মারপিট করছে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ কিশোরকেও একইভাবে লাঠি দিয়ে পেটান তারা। নির্যাতনের স্বীকার ঐ তরুণ-তরুণী বারবার ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও তারা কোন কথা শুনেনি। অনেকেই দুই তরুণ-তরুণীকে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার কথাও শুনা যায় ঐ ভিডিও দুটিতে।
তরুণ-তরুণীকে নির্যাতনের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই নির্যাতনকারী ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান সেটা নিশ্চিত করে চুড়ামণকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, মেয়েটি চরিত্রহীনা। এর আগেও অনেকবার অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে আমি মোবাইলে ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলেছি সত্য ঘটনাটি জানার জন্য। মেয়ে ও ছেলেটি যদি অন্যায় করেও থাকে তাহলে এইভাবে নির্যাতন করা উচিত হয়নি। ইউপি সদস্য আসলেই অন্যায় করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভুক্তভুগী মেয়ে ও ছেলের পরিবারের সদস্যদের ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বলেছিলাম। এর সুষ্ট বিচার করে দেওয়ার প্রতিশ্রæতিও দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী কেউ আসেনি আমার কাছে।
এই বিষয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পিতা থানায় এসে ৪ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মারধরের ভিডিও দেখে চিহ্নিত ১ জনের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের আটকে অভিযান চলমান রয়েছে।

