বাগেরহাট: জেলার কচুয়া উপজেলার পল্লীতে এবার অস্ত্রের মুখে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) গণধর্ষণ করেছে বখাটেরা। অসুস্থ অবস্থায় শুক্রবার রাতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) ওই শিক্ষার্থীকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে তার পরিবার। বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার রাতে কচুয়া উপজেলার কলমিবুনিয়া গ্রামে ওই শিক্ষার্থীর ঘরে প্রবেশ করে চার বখাটে অস্ত্রের মুখে তাকে ধর্ষণ করে।
খবর পেয়ে ধর্ষকদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই স্কুলছাত্রী শনিবার সকালে বলেন, বাবা ও মা আমার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আর এ সুযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এলাকার কাদের মোল্লার ছেলে এজাজুল মোল্লা (২২), আজাহার শেখের ছেলে সোহেল শেখ (২২), ইউসুফ শেখের ছেলে টিপু শেখ (২৫) ও বারেক মোল্লার ছেলে সজিব মোল্লা (২৫) জোরপূর্বক আমাদের ঘরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে তারা আমার গলায় ছুরি ধরে এবং দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করেছে। তাদের অত্যাচারে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
এ বিষয়ে এলাকার ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, এরা এলাকার চিহ্নিত বখাটে, এর আগেও স্থানীয় অনেক মেয়ের সাথে তারা খারাপ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ আছে। এদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা উচিত।
শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা বাড়িতে আসি। মেয়ের কাছে বিষয়টি শুনে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি আমার মেয়ের ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স তুলশী রাণী বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের ফলে অল্প বয়সের মেয়েটি খুবই অসুস্থ্ হয়ে পড়েছে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছি।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আমরা মেয়েটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছি।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, খবর শুনে নির্যাতিতা মেয়েটিকে দেখতে শুক্রবার রাতেই হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির কথা শুনেছি। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ভয় না পেয়ে মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় মামলা রেকর্ডের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

