নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা হাসপাতালের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যশোর শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ মোড়ে সহস্রাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়নসংগ্রাম কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্নরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেন। মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশ থেকে আগামী ৫ মার্চ সকাল ১০টায় মেডিকেল কলেজ মোড়ে অবস্থান ধর্মঘটে সবাইকে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে সূচনা বক্তব্য দেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. আবুল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সামাজিক ব্যক্তিত্ব শেখহাফিজুর রহমান মাস্টার। বক্তব্য রাখেন যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ, অ্যাড. গোলাম মোস্তফা, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশীদ, প্রেসক্লাব যশোরের যুগ্মসম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, পৌরকাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়ন, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস ইভা, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আজিজুল হুদা, নতুনহাট পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক কাউন্সিরর অ্যাড. আনিচুর রহমান মুকুল, শংকরপুর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম গাজী, গোলপাতা মসজিদের ইমাম মাহামুদুল হাসান, শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল, নারী সংগঠক হালিমা খাতুন শিল্পী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন যশোরমেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু।
কর্মসূচিতে উদীচী যশোর, বিবর্তন যশোর, ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন যশোরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শংকরপুরের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তাদের ৩ ফসলি জমি দান করেন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য; কারণ কলেজ হলে হাসপাতাল হবে; হাসপাতাল হলে এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা অল্প খরচে পাবে।
বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ মেডিকেল কলেজ হলেও তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি এক দশকেও। দীর্ঘ ১০ বছরেও এ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল চালু করা হয়নি। যদিও যশোরের পরে স্থাপিত পাশের জেলা সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা যশোরবাসীর সাথে প্রতারণার সামিল। কারণ মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল না থাকলে সেই মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গ হয় না।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কলেজটির সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। পরবর্তীতে শহরের শংকরপুর এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে কলেজ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কলেজে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

