চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: ১৬ মাসেও প্রকাশ হয়নি যশোরের চৌগাছার রাজাকারের পিতার নামে বাজারের নামকরণের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন।
২০২০ সালে ১৮ আগস্ট (বুধবার) উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের কড়াইতলা নামক স্থানটি তালিকাভূক্ত রাজাকার মুজাহিদ ওরফে চেন্টুর বাবার নামে নামকরণ এবং সাইন বোর্ডে সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন লিখার প্রতিবাদে চৌগাছা সদরের ভাস্কর্য মোড়ে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা।
সেসময় ওই ঘটনায় উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। বিষয়টি নিয়ে পরের দিন (১৯ আগস্ট ২০২০) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডারসহ বিভিন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের বক্তব্য সহকারে বিভিন্ন জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করে। ঘটনা তদন্তে ওই বছর ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার উন্নয়ন সম্বন্ময় সভায় (বিবিধ-ঘ) উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়কে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা পরিষদ। কমিটিতে সিংহঝুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল ও সাবেক উপজেলা সমবায় অফিসার ছালাউদ্দিনকে সদস্য করা হয়। ইতোমধ্যে সেই সমবায় অফিসার চাকরিজনিত কারণে অন্যত্র বদলি এবং অপর সদস্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গত ইউনিয়ন নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাবেক হয়েছেন। সেই সময়ে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ স্বোচ্চার থাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার নুর হোসেনও গত হয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি আজ পর্যন্ত তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা সমবায় অফিসার ছালাউদ্দিন বলেন, গত বছর (২০২১) মে মাসে আমি বদলি হয়ে চলে আসার আগে সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে এসেছি।
অপর সদস্য সিংহঝুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল বলেন, প্রতিবেদন ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়ের জমা দেয়ার কথা।
এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, প্রতিবেদন তৈরি আছে। আগামী মাসে (মার্চ ২০২২) উপজেলা সমন্বয় সভাতে জমা দেয়া হবে।
সেদিনের বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডাক্তার নুর হোসেন,৭১’র মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরষিদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, উপজেলার রাজাকারের তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা মুজাহিদ আলী ওরফে চেন্টু একজন প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার। ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার মুজাহিদ খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ করেছেন। এ কারনে ১৯৭২ সালে তিনি খুলনায় জেলও খেটেছেন।
জাগো/রায়হান/এএস

