নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দশক ধরে রিকশা চালান আবুল হোসেন নামে পঁচাত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ। অর্থের অভাবে রিকশা কিনতে পারেননি। ভাড়া নিয়ে চালান পায়ে চালিত রিকশা। যা আয় হয় তাতে সংসার চলে না। তাই অসুস্থ স্ত্রী, দুই মেয়ে আর দুই নাতীকে নিয়ে অর্ধাহার অনাহারে দিন কাটছে তার।
রিকশা চালক আবুল হোসেন যশোর সদরের বিরামপুর কালীতলা এলাকায় ভৈরব নদের পশ্চিম তীরে পরিবারের ছয়জনকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তিনি মণিরামপুর উপজেলার মৃত খোদা বক্সের ছেলে। ভূমিহীন হওয়ায় সেখানে তার মাথা গোজার ঠাঁই নেই।
গত শুক্রবার (১১ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে হঠাৎ রিকশা থামিয়ে সহযোগিতার আশায় এক গণমাধ্যম কর্মীর কাছে বলেন ‘বাবা আমারে কিছু টাকা দেন চাল আর ডাল কিনবো, পা-রিকশায় যাত্রী উঠতে চায় না, আজ রিকশা ভাড়ার টাকাও ওঠেনি, খাবো কি’। এক পর্যায়ে তিনি দুর্দশার কথা জানান।
আবুল হোসেন বলেন, তার কোন নিজস্ব বসত ঘর বা জমি নেই। পরের বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। আবুল হোসেন ছয় সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আবুল হোসেন সকালে ভাড়ায় চালিত রিকশা নিয়ে যশোর শহরে বের হন। অটো বা ইঞ্জিন চালিত রিকশা চলার কারণে আবুল হোসেনের পায়ে চালিত রিকশার ভাড়া হয় না। দিনে যা ভাড়া হয় তার থেকে ১৫০ টাকা মালিককে রিকশা ভাড়া দিতে হয়। রিকশা ভাড়া দিয়ে বাসায় বাজার করে নিয়ে ফেরার মতো আর অর্থ থাকে না।
আবুল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভাড়ার টাকাই উঠাতে পারছি না। বাড়িতে বাজার করে নিয়ে যাবো সে টাকাটাও নেই। ঘরে চাল নেই। একটা মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আর একটা মেয়েকে তার স্বামী রেখে চলে গেছে। আমার ঘাড়ে দুটো নাতি। তাদের না খাওয়া অবস্থায় দেখতেও পারি না। আমি ভোটার হতে পারিনি, আমি মূর্খ মানুষ এসব বুঝি না। আমার কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। সেজন্য আমি সরকারি কোন সহোযোগিতা পাই না।
এদিকে, সরেজমিনে আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কুড়ে ঘরের মধ্যে অসুস্থ জীর্ণসর্ন অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন অসহায় আবুল হোসেনের স্ত্রী খেয়া বেগম। ঘরের মধ্যে কয়েকটি হাড়ি আর একটি কম্বল ছাড়া কোন আসবাপত্র নেই বললেই চলে। আবুল হোসেন কখন রোজগার করে আনবে তখন চুলা জ্বলবে আবুল হোসেনের বাড়িতে। আর্থিক সংকটে কখনো আধপেটা আবার কখনো একেবারেই না খেয়ে দিন পার করছে পরিবারটি।
স্থানীয়রা জানান, আবুল হোসেন সকাল থেকে ভাড়ার পা রিকশা চালায়। যা আয় হয় তা দিয়ে চাল, ডাল ও তরিতরকারি ক্রয় করেন। একটি মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। অন্য মেয়ের স্বামী ফেলে রেখে গেছে। এ মেয়ের দুই সন্তান রয়েছে। দুই মেয়ে, দুই নাতি ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যদের পরিবারের ভার আবুল হোসেনের একার কাঁধে।
আবুল হোসেনের মেয়ে রেখা বেগম জানান, আমি একাই এই ইউনিয়নের ভোটার। ভাড়ায় থাকি। তাই কেউ একটা শীতের কম্বলও দেয়নি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী ঘর দিচ্ছে, জায়গা জমি দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের জন্য কি কিছু আছে বলে মনে হয় না। এলাকার মেম্বর চেয়ারম্যানরা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের খুঁজে বেড়ায়। কারও কাছে সাহায্যে চাইলে এ জামানায় সাহায্য পাওয়া খুব কঠিন।
আবুল হোসেনের ব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, খুবই দূরাবস্থা এই পরিবারের। চাল তো দূরের কথা। একটা কম্বলও পায়নি। এই এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের এই পরিবারের দিকে নজর দেয়া দরকার।
জানতে চাইলে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির তুহিন বলেন, আমি এখনো দায়িত্ব পাইনি। দায়িত্ব পেলে এই পরিবারটিকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় তা ভেবে দেখবো।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

