যশোরে সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি কৃষক, বেশি দাম দিলেই মিলছে সার

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কালোবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনছে কৃষকেরা। ফলে বেশি টাকা দিলে কৃষকের চাহিদা মতো সব সার বাজার পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য ব্যবসায়ীরা বাজারে বিভিন্ন প্রকার সারের দাম বাড়িয়েছে কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা করে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসিনতায় সারের এই কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ডিলাররা কালোবাজারে বেশি দামে সার বিক্রি করছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ওই সব ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কার দাশ।

যশোর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রতি কেজি ট্রিপল সুপার (টিএসপি) ২২ টাকা, ইউরিয়া ১৬ টাকা, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ১৫ টাকা ও ডিএপি ১৬ টাকা কেজি দর নির্ধারণ করা।

যশোর সদর, চৌগাছা, মণিরামপুর, ঝিকরগাছা, অভিয়নগর, নওয়াপাড়া বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৮-২২ টাকা, টিএসপি এবং পটাশ ৩৫-৩৬ টাকা করে ও ডিএপি ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে সরকারে মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকলেও তা কাজে আসছে না। অন্যদিকে সরকার নির্ধারণ না করে দিলেও আমন মৌসুমে ২৬ টাকা বিক্রি হওয়া সালফার এবার বোরো মৌসুমে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিরামপুরে এক ডিলার বলেন, ‘আমি ডিলার হয়েও ন্যায্য দামে সার কিনতে পারছি না। সরকারে রেটে বিক্রি করবো কি করে। তিনি আরও বলেন, ৫০ কেজি ইউরিয়া বস্তা আমার দোকান পর্যন্ত ৭৭৫ টাকায় পৌঁছানোর কথা। কিন্তু ইউরিয়ার বস্তা আমাকে ৮২০ টাকা কিনতে হচ্ছে।’

মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের মাসুদ রানা বাবু বলেন, ‘কৃষি অফিসের সাথে ডিলারদের বিশেষ চুক্তি আছে। যার জন্য মাঝে মাঝে লোক দেখানোর ডিলারদের গোডাউনে যায় সার আছে কি না দেখা জন্য। তারপরে ডিলাররা চাহিদা অনুসারে সার পাচ্ছে না বলে প্রচার করছেন। এরপর বেশি দাম দিলেই পাওয়া যাচ্ছে ওই সব ডিলারদের কাছ থেকে সার। তবে ডিলাররা কোনো চাষিকে সার বিক্রি রশিদ দিচ্ছে না। আবার কেউ তাদের কাছে বিক্রি রশিদ চাইলে সেই চাষির কাছে সার বিক্রি করছে না।’

চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের চাষি লোকমান হোসেন বলেন, ‘৪ বিঘা বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের উৎপাদিত টিএসপি সার দিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টিএসপি সার কিনতি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকা করে কেজি। কিন্তু সরকারে নির্ধারণ করেছে এই টিএসপি সার ২২ টাকা কেজি।’

যশোর সদর উপজেলার চুড়মনকাটি গ্রামের কৃষিক আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সার কিনতে গেলে সরকারে দাম সার পাচ্ছি না। আমরা জিম্মি হয়ে গেছি সার সিন্ডিকেটের হাতে। ফলে বেশি টাকা দিলেই সার মিলছে আবার তাদের কাছে থেকেই।’

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কার দাশ বলেন, ‘আমরা সব সময় বাজার মনিটরিং করছি। পাশাপাশি কৃষকের মৌখিক অভিযোগ পেয়েও আমর সেই সব প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। তাদের সাথে কথা বলছি। সমাধান দেয়া চেষ্টা করছি। এছাড়াও যদি ডিলাররা সারে বেশি দাম নিয়ে থাকে এমন কোন লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ