নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ২০২০-২১ সেশনে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিপুণ বিশ্বাস। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সভায় উপচার্যের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন যবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আবদুর রশীদ অর্ণব।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়ায় মেধাতালিকার শীর্ষে থেকেও তাকে বঞ্চিত হতে হয়েছে ভর্তি থেকে। তবে ভর্তি হতে পারবেন, এমন আশায় নিপুণ ক্যাম্পাসে গতকাল রাত থেকে অবস্থান করছিলেন।
নিপুন বিশ্বাসের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে। তার বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নরসুন্দর।
যবিপ্রবি ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় যবিপ্রবির স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২০২০-২১ সেশনে তৃতীয়বারের মতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ বিশ্বাস। তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান ততক্ষণে বেজে যায় ১২টা ৮ মিনিট। ১৫ হাজার টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগী নিপুণ বিশ্বাস বলেন, তার কোনো স্মার্টফোন নেই, যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে নোটিশটি দেখতে পারেননি। এমনকি তার মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো কল বা মেসেজও যায়নি। মাঝরাতে তার এক বড় ভাই ফোন করে বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আশপাশের লোকজন কাছ থেকে ধার করে ২৩ হাজার টাকার ব্যবস্থা করেন।
এরপর নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য ১৫ হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। কিন্তু যশোর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব বেশি এবং রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট বেজে যায়।
তিনি যখন গাড়িতে ছিলেন তখন এক বড় ভাইকে ফোন করে বলেন, তার ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে দেরি হবে। ক্যাম্পাসের ওই বড় ভাই বিষয়টি ডিনকে জানান। নিপুণ যখন ক্যাম্পাসে পৌঁছান তখন জানতে পারেন মেরিট লিস্টে তিনি প্রথমে থাকলেও তৃতীয় সিরিয়ালে থাকা এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এরপর অনেক অনুনয়-বিনয় করেও ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ।

