স্থগিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাস্তায় প্রতীকি পরীক্ষায় বসলো শিক্ষার্থীরা

আরো পড়ুন

জাগো বাংলাদেশ ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত করা পরীক্ষাগুলো নেওয়ার দাবিতে যশোরে মানববন্ধন ও প্রতীকি পরীক্ষা কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

(২৫ জানুয়ারি) মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে যশোর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালন করে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূধন কলেজ, সিটি কলেজ, ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যালসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সিন্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেন জানান এসকল শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবন চরম সংকটে পড়তে যাচ্ছে। ২০২০ সালে যাদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা ছিল, ২০২২ সালেও তা শেষ হয়নি। এতে করে পড়াশোনার সনদ গ্রহণের পর চাকরিতে প্রবেশের জন্য সময় কমে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পড়া শেষ হতে হতে বয়স ২৬ থেকে ২৭ হয়ে যাবে।

অথচ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক চাকরিতে প্রবেশের প্রস্তুতির জন্য এ সময় যথেষ্ট নয়। যেসব কারণে করোনা সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে সেগুলো বন্ধ না করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। অথচ এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সশরীর পরীক্ষা নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দ্রæত সব পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান বলেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে সরকার পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। অথচ সরকার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ করেছে।

এ ছাড়া দেশে বাণিজ্য মেলা বা এমন আরও অনেক বিষয়ে জনসমাগম হতে পারলে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন এ বিধিনিষেধ? স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি সবকিছু চলতে পারে, তাহলে পরীক্ষা কেন চলতে পারে না। ইমরান হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দ্রুত পরীক্ষার নতুন করে রুটিন না দিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনশনে যাওয়ার মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ