যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত দুই মাসে জেলা শহর ও আশেপাশের এলাকার দুই শতাধিক শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, মূলত নিয়মিত টিকাদানে অবহেলা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও যশোর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের দীর্ঘ সারি। তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে আসা শিশুদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অনেক অভিভাবক আবার হাম এবং জলবসন্তের (চিকেন পক্স) উপসর্গ নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে:
যশোর শিশু হাসপাতাল: গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রায় ৯০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: গত তিন মাসে অন্তত ৪৫ জন শিশু ভর্তি হয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এছাড়া বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে আরও অনেক শিশু।
টিকাদানে অনীহা ও অসচেতনতা
আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগই হাম-রুবেলার (MR) টিকা নেয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন জানান, তার ১৫ মাস বয়সী মেয়ের টিকার কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় তিনি সময়মতো টিকা দিতে পারেননি, যার ফলে শিশুটি এখন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
অন্যদিকে, মণিরামপুর থেকে আসা উজ্জ্বল দাস জানান, তার আট মাস বয়সী মেয়ের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে বেসরকারি ক্লিনিকে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।
যশোর শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, “হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। মূলত অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়াই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ।”
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণের কথা জানান। তিনি বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার পরও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করছেন।”
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, “সারা দেশেই বর্তমানে হামের কিছুটা প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, যশোরও তার বাইরে নয়। তবে জেলায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।”

