বিশ্ববাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ায় খুচরা পর্যায়ে চড়া দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, দেশে নতুন তেলের চালান পৌঁছানো এবং বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চতুরবাড়িয়া বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্লীর এই বাজারের টাওয়ারের পাশে অবস্থিত এক চা দোকানীকে প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৩০০ টাকা দাবি করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে প্রতিবেদক তেল কিনতে চাইলে তার কাছেও একই দাম চাওয়া হয়, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি সংকট কাটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক’ এর সাথে চুক্তি অনুযায়ী ‘এমটি গ্রান কুস্থ’ নামের জাহাজটি এই জ্বালানি নিয়ে এসেছে। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ সূচিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও এই নতুন চালানের ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: বাড়ছে না দাম, দেওয়া হচ্ছে বিপুল ভর্তুকি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি জানান:
* আগাম মজুদ: আগামী এপ্রিল পর্যন্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আপৎকালীন সময়ের জন্য ৯০ দিনের মজুদ রাখা হচ্ছে।
* বিশাল ভর্তুকি: জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি খাতে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
* বিশ্ব পরিস্থিতি: বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশ তেলের দাম বাড়ালেও, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে (খাবার ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে) সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদ ও ভর্তুকির কথা বলা হলেও বাঘারপাড়ার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৩০০ টাকা লিটারে তেল বিক্রি হওয়ার ঘটনায় কঠোর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

