বেনাপোলে ৩.৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন: যুগ্ম কমিশনারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

আরো পড়ুন

বেনাপোল কাস্টম হাউসে মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ফাঁকিকৃত রাজস্ব ও অঘোষিত পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তবে এই কঠোর অবস্থানের কারণে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেলের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের চিত্র ও রাজস্ব আদায়
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত দুই মাসে ফল, মাছ, মোটর পার্টস, শাড়ি, কসমেটিকস ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের চালানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এতে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে:
* আঙুর আমদানিতে: ফাঁকি দেওয়া প্রায় ৬৪ লাখ টাকা আদায়।
* মোটর পার্টস ও আনুষঙ্গিক: প্রায় ৭৫.৫ লাখ টাকা আদায়।
* সামুদ্রিক মাছ: ৩১.৫ লাখ টাকার বেশি শুল্ক আদায়।
* অন্যান্য (কেমিক্যাল, কাপড়, ধর্মীয় গ্রন্থ): প্রায় ৮৯ লাখ টাকা রাজস্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন চালানে জরিমানা ও শুল্ক মিলিয়ে আরও ৭৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনটি সিএন্ডএফ (C&F) লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছতা
রাজস্ব ফাঁকি রোধে ASYCUDA World System-এর ‘G-Truck Movement’ সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। ফলে মেনিফেস্ট বহির্ভূত কোনো ভারতীয় ট্রাক এখন আর বন্দরে প্রবেশের সুযোগ নেই। এছাড়া ফল ও মাছের মতো পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন এনবিআর-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে যাচাই করায় প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত ১ থেকে ১.৫ টন পণ্যের ওপর শুল্ক আদায় করা সম্ভব হচ্ছে।

যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল যোগদানের পর থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় একটি চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাকে বদলি করার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি এবং সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মকর্তার পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠন দুটির নেতারা তাকে একজন ‘সৎ ও অভিজ্ঞ’ কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, বৈধ ব্যবসায়ী ও সৎ করদাতাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে শুল্ক ফাঁকির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের গত আট মাসে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ