আন্তর্জাতিক ডেস্ক ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে অস্থিরতা আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
তেলের বাজারে বড় উল্লম্ফন: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুক্রবার সকালে (জিএমটি ০৩.০০) ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১.১৩ ডলারে পৌঁছেছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে। টোকিও, সিউল ও হংকংসহ এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলো শুক্রবার নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালী ও ইরানের হুঁশিয়ারি: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই পথটি কার্যত বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করার পরই তেলের বাজারে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নৌপথটি তাদের একটি কৌশলগত হাতিয়ার এবং প্রয়োজনে তারা এটি ব্যবহার করবে।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও জাহাজ চলাচল স্থবিরতা: অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেলের দাম বৃদ্ধিকে বড় বিষয় স্বীকার করেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা কমে মাত্র ৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনের সাথে সংশ্লিষ্ট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জ্বালানি মজুদ ও ঘাটতি: বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকায় তেল ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার কথা বললেও পেন্টাগন এখনো তেমন কোনো অভিযান শুরু করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এমন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
হরমুজ সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন: ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

