কেশবপুরে অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ: ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

আরো পড়ুন

যশোরের কেশবপুর শহরের ‘কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল’ নামের একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত শিশুর নাম আরিয়ান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালিয়েছে।

নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে শিশু আরিয়ান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থানরত চিকিৎসক কামরুল ইসলামের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ অনুযায়ী নার্স মারিয়া ইয়াসমিন শিশুটিকে চিকিৎসা দেন। ইনজেকশন বা ওষুধ প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয় এবং এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

শিশু আরিয়ানের নানী নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়নি যে ডাক্তার বিদেশে আছেন। তারা অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে আমার নাতিকে মেরে ফেলেছে। যদি আগে জানতাম ডাক্তার নেই, তবে আমরা অন্য কোথাও যেতাম।”
শিশুটির নানা খায়রুল মোল্লা জানান, আরিয়ানের মা রাবেয়া ও বাবা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। জন্মের দেড় মাস বয়স থেকেই শিশুটি নানা-নানীর কাছে বড় হচ্ছিল। আদরের ধনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ক্লিনিকের রিসিপশন শাখার কর্মীরা শোকাহত স্বজনদের সাথে মারমুখী আচরণ করেন। এতে আশপাশের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনার পর থেকেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মকলেছুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। মৃত শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ