টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজের পরপরই এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বহুতল ভবন ছেড়ে দ্রুত খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। ভূপৃষ্ঠের গভীরে সৃষ্ট এই কম্পন রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
জুমার নামাজ শেষ করে মুসল্লিরা যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন বা বাসায় ফিরছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই মাটি কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং ভবনের আসবাবপত্র নড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভবন ধস বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিটেও দেশজুড়ে ৪.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্যমতে, সেই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
পরপর দুই দিন মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এই কম্পনগুলোকে বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্প পরবর্তী সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

