যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামে প্রকাশ্যে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখল এবং প্রায় পাঁচ হাজার পিস বাঁশ কেটে লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার নেপথ্যে ‘গলাকাটা পান্না’ ও সহযোগীরা
থানায় দেওয়া অভিযোগে কুখ্যাত সন্ত্রাসী পান্না শেখ ওরফে ‘গলাকাটা পান্না’, সানি আহম্মেদ ও সোয়েবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকের জামাতা ও বাঘারপাড়া উপজেলার ভিটাবল্লা গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ এই দখলচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি চিহ্নিত আওয়ামী ক্যাডার ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে এই তাণ্ডব চালিয়েছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত
ভুক্তভোগী হোসনে আরা বেগম বেবী অভিযোগে উল্লেখ করেন:
* পারিবারিক বন্টননামা অনুযায়ী সবাই নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছিলেন।
* মৃত বড় ভাইয়ের জামাতা সুরুজ দীর্ঘদিন ধরে হোসনে আরার অংশসহ অন্য শরিকদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
* গত ২৩ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সন্ত্রাসী পান্না ও তার দলবল নিয়ে সুরুজ জোরপূর্বক জমি দখল করেন এবং প্রায় ৫ হাজার বাঁশ কেটে নসিমনযোগে সরিয়ে নেন।
* বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
হোসনে আরার বড় ভাই মাহামদু জানান, সুরুজ ওই জমি নিজের দাবি করে সন্ত্রাসীদের কাছে ‘বায়না সূত্রে’ মালিকানা হস্তান্তর করেছেন বলে প্রচার করছেন। সেই সূত্র ধরেই সন্ত্রাসীরা গাছগাছালি কাটতে শুরু করলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
অভিযুক্ত সুরুজ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি আইন মেনেই জমি বিক্রি করেছেন এবং ক্রেতারা তাদের নিজ জমিতেই কাজ করছিলেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমৃত জানান:
> “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”?

