ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর সাড়ে চার বছরের শিশু তাবাসসুমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে রক্তমাখা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তার পরিবার বর্তমানে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটার পর থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাদুড়গাছা গ্রামের এক কৃষক মাঠে যাওয়ার পথে আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একটি রক্তমাখা বস্তা দেখতে পান। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি সংস্থায় (ওয়েব ফাউন্ডেশন) কর্মরত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান:
> “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বস্তায় ভরে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

