যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, বুরুলী খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে শত শত একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার নদী খনন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অতীতের সেই সফলতা বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হবে বলে তারা আশা করছেন।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, নতুন প্রজন্ম অতীতের খাল-নদী খননের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেনি। বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে তারা তা দেখার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি জেলায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থানের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, বুরুলী খালটি ভবদহ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। খালটি পুনঃখনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমি আবার চাষযোগ্য হয়ে উঠবে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন এবং প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে স্থানীয় নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল খনন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
এ উদ্যোগকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন হলে ভবদহসহ আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

