নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল নড়াইলের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৫ খুনের মামলার অন্যতম আসামি রনি শিকদারকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। সোমবার রাতে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর শিকদার বাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রনি ওই এলাকার আমিন শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ‘পুরানো বনাম নব্য’ কোন্দলই এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মূল কারণ। গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর খায়ের মোল্লার অনুসারীরা এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে বর্তমান খলিল মোল্লা গ্রুপের সাথে তাদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর আর্তচিৎকারে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নৃশংস সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান:
* খলিল রহমান ও তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন।
* ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ।
* পাল্টা হামলায় খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াও নিহত হন।
একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ ৫ জনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় বর্তমানে শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
র্যাবের অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ যশোরের একটি আভিযানিক দল তারাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনি শিকদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৬ এর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আটক আসামিকে বর্তমানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে র্যাবের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নড়াইল জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গ্রামে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়কুলা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।?

