তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সাথে তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দপ্তর বণ্টন করেন।
এহছানুল হক মিলনের মন্ত্রী হওয়ার খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন সমর্থকরা।
১৯৫৭ সালে চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্মগ্রহণ করা এহছানুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ এবং ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করে তিনি দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। তৎকালীন সরকারে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
‘
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সারাদেশে পরীক্ষার হল থেকে ‘নকল’ দূরীকরণে অত্যন্ত কঠোর ও সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন এহছানুল হক মিলন। তাঁর সেই সময়কার গৃহীত পদক্ষেপগুলো আজও শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিগত ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি অসংখ্য মামলার শিকার হন। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-১ আসন থেকে পুনরায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগে তিনি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও ত্যাগ করেন।
কচুয়া উত্তর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ মিয়াজী বলেন, “এহছানুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ায় কচুয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তাঁর হাত ধরে আবারও এ অঞ্চলের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোয়ার আসবে।”
এলাকাবাসী মনে করেন, অতীতে তিনি যেভাবে এলাকায় ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট ও শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করেছিলেন, এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও বড় পরিসরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবেন।
নাম: ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মন্ত্রণালয়: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্বাচনী এলাকা: চাঁদপুর-১ (কচুয়া)।* সাফল্য: ২০০১ সালে নকলমুক্ত শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রদূত।

