বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে তিনি এই নির্বাচন বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি ‘আওয়ামী লীগবিহীন’ ও ‘ভোটারবিহীন’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের রাত (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচা এবং ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারার মাধ্যমে কারচুপির সূচনা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য।
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন:
> “সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। দিনের প্রধান সময়েও জনগণের এই অনাগ্রহই প্রমাণ করে যে দেশবাসী এই একতরফা নির্বাচনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তার দাবি, সরকারযন্ত্রের সকল প্রকার ভীতি প্রদর্শন উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ এই ‘প্রতারণামূলক’ নির্বাচন বর্জন করেছে।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন:
১. ১২ ফেব্রুয়ারির তথাকথিত নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করা।
২. প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ।
৩. শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি।
৪. আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার।
৫. একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনরায় স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে আসছেন। এবারই প্রথম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইলেন।

