ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জেলার মোট চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জেলাটিতে আবারও নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেল দলটি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাপ্ত সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই বেসরকারি জয় ঘোষণা করেন।
| আসন | বিজয়ী প্রার্থী (জামায়াত) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী | প্রাপ্ত ভোট |
|
| সাতক্ষীরা-১ | ইজ্জত উল্যাহ | ১,৯০,৯৬৭ | হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি) | ১,৬৮,৬৯০ |
| সাতক্ষীরা-২ | মুহাদ্দিস আবদুল খালেক | ২,৬০,৪২৩ | আব্দুর রউফ (বিএনপি) | ১,১৪,৩৩২ |
| সাতক্ষীরা-৩ | রবিউল বাশার | ১,৩২,৮৭৩ | ডা. শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র) | ৯৩,৮৩৪ |
| সাতক্ষীরা-৪ | গাজী নজরুল ইসলাম | ১,০৫,৮০৫ | ড. মো. মনিরুজ্জামান (বিএনপি) | ৮৪,৯৬৮ |
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে তীব্র লড়াই শেষে জয় পান জামায়াতের ইজ্জত উল্যাহ।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): জেলার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। তিনি বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের রবিউল বাশারের কাছে পাত্তা পাননি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম ও বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন। ধানের শীষের প্রার্থী এখানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): গাজী নজরুল ইসলাম ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানকে পরাজিত করে নিজের আসন পুনরুদ্ধার করেছেন।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা শান্তিপূর্ণ বিজয় মিছিল বের করেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বিশাল উপস্থিতি এবং জামায়াতের সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তিই এই ‘ক্লিন সুইপ’ বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

