নির্বাচনী নিরাপত্তায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার: ৮ হাজার ৭৭০ কেন্দ্র ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত

আরো পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম জানান, এবারের নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি বিবেচনায় ৮ হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ড্রোন ও বডি ক্যামেরা
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে পুলিশ। আইজিপি জানান:
* বডি ক্যামেরা: অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে।
* ড্রোন ও সিসিটিভি: আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এছাড়া দেশের মোট ভোটকেন্দ্রের ৯০ শতাংশই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
* মোতায়েন: নির্বাচনকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়
আইজিপি জানান, এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে প্রধানত তিনটি স্তরে:
১. ভোটকেন্দ্র: কেন্দ্রের ভেতরে ও আশেপাশে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
২. ভ্রাম্যমাণ দল (Mobile Team): নিয়মিত টহল ও তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. স্ট্রাইকিং ফোর্স (Striking Force): যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা।

নির্বাচনী সহিংসতা রোধে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আইজিপি বলেন, “শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে।” এছাড়া সীমান্ত দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে যেন অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সহিংসতার চিত্রও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬০৩ জন। তবে আসন্ন ভোটগ্রহণের দিনটি যেন উৎসবমুখর ও নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ