যশোরের রাজনৈতিক মাঠ যখন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনী বার্তায় উত্তাল, তখন শহর থেকে দূরে কালিয়া উপজেলার এক কোণে বইছে ভিন্ন এক আবেগের হাওয়া। রাজনীতির কূটকৌশল বা ক্ষমতার হিসাব নয়, বরং স্রেফ একনজর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অপেক্ষায় দিন গুনছে ছোট্ট শিশু আফিয়া। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার ‘তারেক মামা’ যশোরে আসছেন—এই খবরে যেন খুশির সীমা নেই তার।
?
যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের শিশু আফিয়া জন্ম থেকেই বিরল ‘অ্যালবেনিজম’ (শ্বেতবর্ণ) আক্রান্ত। তার শরীরের অতিরিক্ত ফর্সা রঙ মেনে নিতে পারেনি তার জন্মদাতা বাবা মোজাফফর। অপবাদ দিয়ে স্ত্রী মনিরা বেগম ও কোলের শিশু আফিয়াকে ফেলে পাড়ি জমান প্রবাসে। আশ্রয়হীন মনিরা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ঠিক সেই সময়েই, যখন ভাগ্য বিড়ম্বিত এই মা-মেয়ের কাহিনী গণমাধ্যমে উঠে আসে।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি দলীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মাধ্যমে আফিয়া ও তার মায়ের পাশে দাঁড়ান।
* মাথা গোঁজার ঠাঁই: মা-মেয়ের জন্য স্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করে দেন।
* গৃহসজ্জা: আসবাবপত্র দিয়ে পুরো ঘর সাজিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনযাপনের দায়িত্ব নেন।
* শিক্ষা: আফিয়ার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার পড়াশোনার পূর্ণ দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন তিনি।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের জন্য নির্মিত নতুন ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকেই তারেক রহমান আফিয়ার কাছে হয়ে উঠেছেন আপন ‘তারেক মামা’।
আফিয়ার মা মনিরা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বিপদের সময় যখন কেউ পাশে ছিল না, তখন তারেক রহমান আমাদের বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। তারেক রহমান যশোরে আসছেন শুনে আমরা ভীষণ আনন্দিত। আফিয়া অধীর আগ্রহে আছে তাকে সামনাসামনি দেখার জন্য।”
মনিরা আরও যোগ করেন, “একবার যদি প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে পারি, আফিয়া যদি তার প্রিয় ‘তারেক মামা’র সঙ্গে কথা বলতে পারে—তবেই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।”
আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের যশোর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে যখন সাজ সাজ রব, তখন আফিয়া ও তার মায়ের এই নীরব প্রতীক্ষা মনে করিয়ে দিচ্ছে রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা এক মানবিক সম্পর্কের কথা। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন ফিরছে সেই প্রশ্ন—আফিয়া কি পারবে তার ‘তারেক মামা’র দেখা পেতে?

